ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। তিনি জানিয়েছেন, এই গেজেট শুক্রবার বা শনিবারের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের সাথে এক আলোচনায় তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ‘আজ বা কালকের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হতে পারে।’ এই ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা-৮ আসনে ভোট পুনর্গণনার সুযোগ নেই
পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনার একটি বিতর্কিত বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি জানান, ঢাকা-৮ আসনে ভোট পুনর্গণনার কোনো সুযোগ নেই। এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর বিপক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ৪ হাজার ৯৮০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
মির্জা আব্বাস মোট ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট পেয়েছেন, অন্যদিকে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই এই আসনে উত্তেজনা দেখা দেয়, যেখানে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
বিতর্ক ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট
নির্বাচনের দিন রাত আড়াইটার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একটি সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বাতিল ভোটের বিষয়টি। ঢাকা-৮ আসনে মোট ২ হাজার ৪৯৭টি ভোট বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাতিল ভোটের পেছনে একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো ব্যালট পেপারের নকশা। ব্যালট পেপারের একদম বাম পাশে ধানের শীষ প্রতীকের ঘর থাকায়, পাশের ফাঁকা স্থানে অনেক ভোটার সিল দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ভোট বাতিল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়।
উভয় প্রার্থীই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট পুনর্গণনার সুযোগ নেই। এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখার দিকে ইঙ্গিত করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে এবং নতুন সংসদ গঠনের পথ সুগম হবে। নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণা জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
