যশোরে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত, বাড়িঘর ভাঙচুর
যশোরে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় জামায়াতের অর্ধশতাধিক আহত

যশোরে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত

যশোর জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার প্রেস ক্লাব যশোর মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা দাবি করেন, জেলার ৬টি সংসদীয় এলাকায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের হামলায় জামায়াতের অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন এবং বহু বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতাদের বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল লিখিত বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই জেলার বিভিন্ন আসনে মহিলা ভোট-কর্মীদের নির্যাতন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোটার কর্মী ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা তীব্রতর হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্য যশোর-১ আসনের মাওলানা আজীজুর রহমান, যশোর-২ আসনের ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের গাজী এনামুল হক ও যশোর-৬ আসনের অধ্যাপক মোক্তার আলী। তারা নিজ নিজ এলাকার সহিংসতার চিত্র তুলে ধরেন।

সহিংসতার বিস্তারিত বিবরণ

অধ্যাপক গোলাম রসুলের বক্তব্য অনুযায়ী, ঝিকরগাছার নাভারণ ইউনিয়নের বায়সা গ্রামে বিএনপির কর্মীরা জামায়াতের সমর্থক রেজাউল হোসেনের পেটে ছুরিকাঘাত করেছে। বায়সা বাজারের ব্যবসায়ীদের দোকান খুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং এক নারী ভোটারকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে।

চৌগাছায় জগদীশপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামে মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জেম ও কমিটি থেকে জামায়াতে ইসলামী সমর্থকদের বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। চৌগাছার ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে আবেদ আলীর বাড়িতে রামদা, লোহার রড, বাঁশের লাঠিসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।

ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাবরকাটি গ্রামের সাবেক মেম্বার তোফাজ্জেলের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে এবং তার মেয়েকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে, যার ফলে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

শার্শা ও অন্যান্য এলাকার ঘটনা

শার্শার বেলতায় জামায়াতের নির্বাচনি কাজ চলাকালে বিএনপির স্থানীয় নেতা মিলন বিশ্বাস ও তরিকুল বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় মনসুর ও তার দুই ছেলে মারুফ ও মামুন, লতা ডাক্তারের ছেলে জীম, এক্সরের ছেলে টিপু, মসলেমের ছেলে ওদু বিশ্বাস এবং মৃত কাওসারের ছেলে টুকু বিশ্বাস অংশ নেয়।

হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জামায়াত কর্মীদের ওপর চড়াও হয়, যাতে কয়েকজন আহত হন। শার্শার লক্ষণপুর ইউনিয়নে বিএনপির নেতা আহসান হাবীব খোকন ও আরমানের নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং একজন প্রিজাইডিং অফিসারকেও মারধর করা হয়েছে।

নিরাপত্তাহীনতা ও হুমকির পরিবেশ

নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিজয়ী হলেও নির্বাচনের পরপরই বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। এর ফলে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মী নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

সদর উপজেলার সুজলপুরের জামতলার মোড়ে বৃহস্পতিবার রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। শুক্রবার সকালে জামায়াত কর্মী সুমনের বাড়িতে বিএনপির ৩০ জন গিয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি করে এবং হত্যার হুমকি দিচ্ছে।

দাবি ও প্রতিক্রিয়া

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও প্রতিশোধমূলক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দোষীদের আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। শার্শা, মনিরামপুর, কেশবপুর, বাঘারপাড়া ও অভয়নগরেও অনুরূপ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলমান বলে উল্লেখ করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ভালো ছিল, তবে নির্বাচন পরবর্তীতে তাদের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়।

অন্যদিকে, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, হামলাসংক্রান্ত তথ্য তাদের কাছে নেই। জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার প্রমাণ দিলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।