বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের বিষপান এড়ানো: কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমানকে শেষ পর্যন্ত বিষের পেয়ালা স্পর্শ করতে হয়নি। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় তিনি স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ থাকা সত্ত্বেও বিষপানের হুমকি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। বরং তিনি হাসলেন ভূমিধস বিজয়ের হাসি।
নির্বাচনি ফলাফল ও বিজয়ের বিশদ
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট রোকন রেজার চেয়ে ৭৬ হাজার ৯০৭ ভোটের বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৩টি। অন্যদিকে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রোকন রেজা পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৪৬ ভোট।
স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ অবস্থান
২৪-এর ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী জুলাই আন্দোলনের মুখে পতিত স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর, জামায়াত-শিবির এমনকি আন্দোলনে অংশ নেওয়া বৈষম্যবিরোধী কতিপয় নেতা এ আন্দোলনকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস চালান। এ আন্দোলনকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করায় তীব্র প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।
তখন থেকেই স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে তিনি আরও উচ্চকিত কণ্ঠ হন। তীব্র প্রতিবাদের ক্ষোভ ঝাড়তে গিয়ে তিনি জামায়াত-শিবির চক্র এমনকি বৈষম্যবিরোধী কতিপয় ছাত্রনেতারও রোষানলে পড়েন। এমনকি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগে থেকেই নিজ নির্বাচনি এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালানোর সময়ও তিনি জামায়াত-শিবির ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী বক্তব্যে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন।
বিষপানের হুমকি ও সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া
প্রকাশ্য জনসভায় ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, "ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির চক্র পাশ করলে আমি বিষ খাব।" তার এমন বক্তব্য তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছিল। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ঘটনাপ্রবাহে এটি একটি উল্লেখযোগ্য মাত্রা যোগ করে।
নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় ফজলুর রহমানের বিষপানের হুমকি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং তার এই বিজয় বিএনপির জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার অবস্থান ও বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
