হবিগঞ্জ-১ আসনে সুজাত মিয়ার দুর্ভাগ্য: বিএনপি পদ ও নির্বাচন হারালেন
হবিগঞ্জ-১ আসনে সুজাত মিয়া বিএনপি পদ ও নির্বাচন হারালেন

হবিগঞ্জ-১ আসনে সুজাত মিয়ার দুর্ভাগ্য: বিএনপি পদ ও নির্বাচন হারালেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে এক চমকপ্রদ ফলাফল দেখা গেছে। বিএনপির সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে দলীয় পদ ও নির্বাচনী আসন—উভয়টিই হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ফলাফল প্রকাশের পর এই আসনে জয়ী হয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, যিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ফলাফল

হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসনের মধ্যে হবিগঞ্জ-১ আসনের ফলাফল নিয়ে আগে থেকেই ব্যাপক আলোচনা ছিল। ড. রেজা কিবরিয়া শুরুতেই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেলেও, শেখ সুজাত মিয়া বাধা হয়ে দাঁড়ান। দলীয় হাইকমান্ড সুজাত মিয়াকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিলেও, তিনি তা অমান্য করেন, যার ফলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তারপরও সুজাত মিয়া নাছোড়বান্দা হয়ে বিএনপির একাংশ, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমর্থক, এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের আকর্ষণের চেষ্টা করেন। তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলায় সক্রিয় প্রচারণা চালান। তবে, দলীয় সমর্থন ছাড়া তার ব্যক্তিগত ইমেজ যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারেনি।

অন্যদিকে, ড. রেজা কিবরিয়া অসুস্থ শরীর নিয়েও পায়ে হেঁটে জনসংযোগ, উঠোন বৈঠক ও জনসমাবেশে অংশ নিয়ে ভোটারদের কাছে তার পরিকল্পনা তুলে ধরতে সক্ষম হন। তিনি দেশ-বিদেশে বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জনের সুযোগ ত্যাগ করে স্থানীয় উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন, যা সাধারণ মানুষ সহজেই গ্রহণ করে।

ভোটের সংখ্যা ও অবস্থান

চূড়ান্ত ফলাফলে ড. রেজা কিবরিয়া ১ লাখ ১১ হাজার ১৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। শেখ সুজাত মিয়া মাত্র ৩৪ হাজার ৬৩৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে চলে যান, যা অনেকের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল।

বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়া

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা মন্তব্য করেন, "শেখ সুজাত মিয়া একজন পুরনো নেতা, কিন্তু তিনি নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছেন। দলীয় নির্দেশ মানলে তিনি হয়তো জেলা সভাপতি পদসহ অন্যান্য সুযোগ পেতেন।" তিনি আরও যোগ করেন, ড. রেজা কিবরিয়া সম্প্রতি দলে যোগদান করায় দলীয় কোন্দল থেকে দূরে থাকতে পেরেছেন, এবং তার পরিবারের প্রতি জনগণের আস্থা জয়ের পথ সুগম করেছে।

এ নির্বাচনে সুজাত মিয়ার পরাজয় তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে, ড. রেজা কিবরিয়ার জয় বিএনপির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য বয়ে এনেছে, এবং অনেকেই আশা করছেন যে তাকে মন্ত্রী পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।