কুমিল্লা-১০ আসনে ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী
কুমিল্লা-১০ আসনে ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

কুমিল্লা-১০ আসনে পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা ১২.৫% ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত হারাতে হয়েছে। এই প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শামছুদ্দোহা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের কাজি নুরে আলম ছিদ্দিকি, আমজনতার দলের মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান, গণঅধিকার পরিষদের রমিজ বিন আরিফ এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হাছান আহম্মেদ।

ভোটের বিস্তারিত ফলাফল

কুমিল্লা-১০ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৩৬ হাজার ২২৭ জন, যার মধ্যে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৮৭ হাজার ১১৫টি। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের ভোটের হিসাব নিম্নরূপ:

  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শামছুদ্দোহা পেয়েছেন ৭ হাজার ৭৬২ ভোট, যা প্রাপ্ত বৈধ ভোটের ২.৭%।
  • মুক্তিজোটের কাজি নুরে আলম ছিদ্দিকি পেয়েছেন মাত্র ৩১৭ ভোট, অর্থাৎ ০.১১%।
  • আমজনতার দলের মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান পেয়েছেন ৩৬৬ ভোট, অর্থাৎ ০.১৩%।
  • গণঅধিকার পরিষদের রমিজ বিন আরিফ পেয়েছেন ২৭৬ ভোট, অর্থাৎ ০.১০%।
  • বাংলাদেশ কংগ্রেসের হাছান আহম্মেদ পেয়েছেন ৩৯৭ ভোট, অর্থাৎ ০.১৪%।

নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, এই আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত এড়াতে প্রতিটি প্রার্থীকে কমপক্ষে ৩৫ হাজার ৮৯০ ভোট পেতে হতো। কিন্তু উল্লিখিত পাঁচ প্রার্থী এই সংখ্যক ভোট অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বিজয়ী ও প্রতিদ্বন্দ্বীর ফলাফল

এই আসন থেকে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ১৫০ ভোট। এই ফলাফল ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরেছে।

নির্বাচন কমিশনের এই নিয়মটি প্রার্থীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, যেখানে ভোটারদের সমর্থন না পেলে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। কুমিল্লা-১০ আসনের এই ঘটনা দেশের অন্যান্য নির্বাচনি এলাকার জন্যও একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করতে পারে, যেখানে ছোট দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জামানত বাজেয়াপ্তের ঝুঁকিতে রয়েছেন।