এনসিপির অভিযোগ: নির্বাচনে কারচুপি ও বিরোধীদের ওপর হামলা, রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি
এনসিপির অভিযোগ: নির্বাচনে কারচুপি ও বিরোধীদের হামলা

এনসিপির তীব্র অভিযোগ: নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও বিরোধীদের ওপর হামলা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলে ব্যাপক কারচুপি এবং ফল ঘোষণার পর বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের তীব্র অভিযোগ তুলেছে। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি এই দমন-পীড়ন অবিলম্বে বন্ধ না হয়, তাহলে তারা রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগসমূহ

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি বলেন, 'নির্বাচনের ফলাফল ইচ্ছাকৃতভাবে কারচুপি করা হয়েছে। ফল ঘোষণার পরপরই বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর সুনির্দিষ্ট হামলা, মারধর এবং এমনকি তাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার মতো বর্বর ঘটনা ঘটছে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'দমন-পীড়নের এই ধারা চলতে থাকলে আমরা রাজপথে সক্রিয় কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব, কারণ জনগণের অধিকার রক্ষায় এটি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।'

বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থনে হামলার ঘটনা

তিনি উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র বিরোধী জোটের সদস্যদের নয়, বরং বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার কারণেও সাধারণ নাগরিক ও কর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন। 'মনে হচ্ছে দেশে একপ্রকার যুদ্ধাবস্থা চলছে,' বলে মন্তব্য করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থীর একজন নিষ্ঠাবান কর্মী এই হামলায় নিহত হয়েছেন, যা একটি মর্মান্তিক ঘটনা।

নির্দিষ্ট আসনে ফল পরিবর্তনের অভিযোগ

এনসিপি যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, সেসব এলাকার প্রায় সব জায়গায় দলটির নেতা-কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। তিনি তিনটি নির্দিষ্ট আসনের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'ঢাকা-৮, পঞ্চগড়-১ এবং দিনাজপুর-৫ আসনে আমাদের প্রার্থীরা প্রাথমিকভাবে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ফল আটকে রাখা, একাধিকবার পুনর্গণনা এবং কাটাকাটির মাধ্যমে অল্প ব্যবধানে তাদের পরাজিত দেখানো হয়েছে।' এসব আসনে ভোট পুনর্গণনার জন্য ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক আবেদনও করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ভোট গণনায় অসঙ্গতি ও বিলম্বের অভিযোগ

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, 'ভোটগ্রহণ শেষে প্রথম কয়েক ঘণ্টায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু পরে হঠাৎ করেই ফলাফলে একটি অদ্ভুত ট্রানজিশন দেখা যায়। কিছু কেন্দ্রে ফল প্রকাশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত হয়, আবার কোথাও কেন্দ্র ঘেরাওয়ের মতো ঘটনাও ঘটে।' তার মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে গণনা সম্পন্ন হওয়ার পরও গভীর রাতে ফল প্রকাশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত সন্দেহজনক।

ঢাকার আসনগুলিতে অসংগতির দাবি

তিনি ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৫ এবং ঢাকা-১৭ আসনের ফল ঘোষণায় 'স্পষ্ট অসংগতি' ছিল বলে দাবি করেন। আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, 'সারা দেশে বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাইয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে ভোট গণনায় ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুতর হুমকি।'

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে গণভোট প্রসঙ্গেও তিনি কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, 'গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন, যা একটি স্পষ্ট গণ রায়। এই গণ রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছাড়া সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি জনগণের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিষয়।' তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।