মাদারীপুর-২ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুললেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য
মাদারীপুর-২ (একাংশ সদর ও রাজৈর) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম এলাকায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ
মিল্টন বৈদ্য তাঁর সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিতভাবে নির্বাচনী অনিয়মের কয়েকটি দিক তুলে ধরেন:
- মাদারীপুর সদরের রাস্তি ও কুলপদ্বীসহ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে।
- নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই রেজাল্ট শিটে এজেন্টদের কাছ থেকে সই নিয়ে তাদের কেন্দ্র থেকে সরানো হয়েছে।
- সদর এলাকায় বেলা ৩টা পর্যন্ত ২০-২৫ শতাংশ ভোট পড়লেও মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ১৫ শতাংশ ভোট বেড়ে যায়, যা অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
- নির্বাচনের দিনই তিনি বিভিন্ন কেন্দ্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এসব অনিয়মের বিষয়ে জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও উত্তেজনার পরিবেশ
মিল্টন বৈদ্য আরও অভিযোগ করেন যে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণার আগেই বিজয়ী প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া বিজয় মিছিল করেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিএনপির ডামি প্রার্থী শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে লিটন খান ও শিপন খান দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ মিছিল নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালাতে এসেছিলেন। তবে তাঁর কর্মী ও সমর্থকদের প্রতিরোধের মুখে সেই হামলা ব্যর্থ হয়। এই ঘটনায় তাঁর কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে মিল্টন বৈদ্য উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "নির্বাচনে ৪৬ হাজার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে এই ভোটাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমার বাড়িতে দিন–রাত পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। কিন্তু আমার কর্মী–সমর্থক ও ভোটারদের বাড়িতে কে পাহারা দেবে? রাজৈর এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।"
বিজয়ী প্রার্থীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনে মিল্টন বৈদ্য বিজয়ী প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়াকে সরাসরি সম্বোধন করে বলেন, "আমি অনুরোধ করে বলছি, সহিংসতার রাজনীতি ছাড়ুন। সংঘাত থেকে সরে আসুন। নির্বাচনে যে যার জায়গা থেকে পছন্দের মানুষকে ভোট দিয়েছে। এখানে কেউ সহিংসতা চায় না। আপনি দয়া করে সহিংসতা করবেন না। এতে দিন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সবাই হব।"
বিএনপির জেলা নেতার প্রতিক্রিয়া
মিল্টন বৈদ্যের এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামিনুর হোসেন (মিঠু) সম্পূর্ণ ভিন্ন মত প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন যে নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়নি এবং কোনো ভোটারকে ভয় দেখানো বা এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেনি। জামিনুর হোসেন বলেন, "তাঁর (মিল্টন বৈদ্য) অভিযোগ কতটুকু যৌক্তিকতা আছে সেটা তিনিই জানেন। দালিলিক প্রমাণ ছাড়া এসব অভিযোগ শুধু বলার জন্য বলা। অভিযোগকারী প্রার্থী নিজেও জানেন তাঁর দাবি অসত্য।"
নির্বাচনী ফলাফল ও বর্তমান পরিস্থিতি
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ৬১ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থক ও কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বর্তমানে বেশ কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। তবে সংঘাত এড়াতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সদস্যদের টহল ও বিভিন্ন স্থানে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ ও পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে মাদারীপুর-২ আসনে এখনও অশান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
