নোয়াখালী-৬ আসনে নির্বাচন-পরবর্তী হামলার অভিযোগ, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি
নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজয়ী এনসিপি ও পরাজিত বিএনপির প্রার্থী একে অপরের কর্মী–সমর্থকদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন। আজ শুক্রবার বিকেলে হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালিতে নিজ নিজ বাড়িতে আয়োজিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের দাবি, পাল্টাপাল্টি হামলায় তাঁদের অনেক নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন, যা নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ: পক্ষপাতমূলক আচরণ ও ভোটার ভীতি
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে তাঁদের কর্মী–সমর্থকদের খুঁজে খুঁজে মারধর করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কিছু সদস্য পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন, যা ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের আগের রাতে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়, ফলে অনেক ভোটার কেন্দ্রে যেতে পারেননি বলে তিনি দাবি করেন।
মাহবুবের রহমান আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর নিঝুমদ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং যুবদল নেতা মোতালেবকে মারধর করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ইউনিয়নে হামলায় আহত ১০ জন নারী–পুরুষ কর্মীকে উপস্থিত করা হয়, যা তাঁদের দাবিকে জোরদার করে।
এনসিপির বিজয়ী প্রার্থীর অভিযোগ: বিএনপির ত্রাস সৃষ্টি
অন্যদিকে বিজয়ী প্রার্থী এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, ভোটের আগের রাত থেকে শুরু করে ফল ঘোষণার পর পর্যন্ত বিএনপির কর্মী–সমর্থকেরা বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি দাবি করেন, চানন্দি ইউনিয়নে তাঁর চাচাতো ভাই মো. হেলালের বাড়িসহ শতাধিক বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
হান্নান মাসউদ বলেন, তাঁদের কর্মী–সমর্থকদের বাড়িতে হামলা হলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, যা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পুলিশ ও নৌবাহিনীর প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা–ভাঙচুরের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি জানান।
হাতিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আলী হায়দারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি, যা অভিযোগের বিষয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এই ঘটনাগুলো নোয়াখালী–৬ আসনে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার চিত্র তুলে ধরছে, যা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে।
