শেরপুর-১ আসনে বিএনপির ভরাডুবি: বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে প্রিয়াঙ্কার পরাজয়
শেরপুর-১ আসনে বিএনপির ভরাডুবি: বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব

শেরপুর-১ আসনে বিএনপির ভরাডুবি: বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব

শেরপুর-১ (সদর) আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের বহুল আলোচিত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা নিকটতম হলেও ভোটের অঙ্কে পিছিয়ে পড়েছেন। হাফেজ রাশেদুল ইসলাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়েছেন, অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট।

বিদ্রোহী প্রার্থীর ভূমিকা

বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ ৬২ হাজার ৪১৫ ভোট পেয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকের এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর মোট ভোট ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৫৭টি। এই হিসাবে, বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে প্রিয়াঙ্কা বিজয়ী হতে পারতেন। শফিকুল ইসলাম মাসুদ সদ্য বিলুপ্ত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন এবং ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন, যা দলের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

দলীয় বিভক্তি ও গ্রুপিং

৪১ বছর পর শেরপুরে বিএনপির বিজয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকলেও দলীয় গ্রুপিং এবং একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতি আসনটি হাতছাড়া হওয়ার কারণ বলে দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। এই নির্বাচনে জেলা বিএনপির প্রায় অর্ধেক নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদের পক্ষে কাজ করেছেন। এ কারণে কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে অনেক নেতা বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কৃত হয়েছেন। তবে, বিএনপির দুই প্রার্থী বা বিদ্রোহী প্রার্থীকে ম্যানেজ করা সম্ভব হয়নি বলে নেতারা উল্লেখ করেছেন।

অন্যান্য প্রার্থীদের ফলাফল

এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে মাহমুদুল হক মনি ৭৫১ ভোট, এনসিপির লিখন মিয়া শাপলা কলি প্রতীকে ৪৫৬ ভোট এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক জাতীয় পার্টির নেতা মো. ইলিয়াস উদ্দিন কাপ পিরিচ প্রতীকে ২০৫ ভোট পেয়েছেন। এই ফলাফল শেরপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট ও বিভক্তির চিত্র তুলে ধরেছে।