ঢাকা-৭ আসনে ভোট গণনায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ, পুনর্গণনার দাবি
ঢাকা-৭ আসনে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ, পুনর্গণনার দাবি

ঢাকা-৭ আসনে ভোট গণনায় কারচুপির তীব্র অভিযোগ

ঢাকা–৭ আসনের ভোট গণনায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লা। তিনি অবিলম্বে ব্যালট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন এবং এই বিষয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত গুরুতর অভিযোগ

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনায়াত উল্লা ভোট গণনায় নানা ধরনের জালিয়াতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'ধানের শীষের অনেকগুলো বান্ডেলে ১০০টি ব্যালট পেপার না দিয়েও গণনায় ১০০টি হিসেবে দেখানো হয়েছে। দাঁড়িপাল্লার পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তারপর রেজাল্ট শিট তৈরি করা হয়েছে।'

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে দাঁড়িপাল্লার এজেন্টদের আপত্তি উপেক্ষা করে অনেক পোলিং এজেন্টকে রেজাল্ট শিটের মূল কপি সরবরাহ করা হয়নি। ভোট গণনার মাঝামাঝি সময়ে ম্যানিপুলেট ও রিগিংয়ের উদ্দেশ্যে গণনাকে অহেতুক দেরি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

লিখিত আপত্তি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ

এনায়াত উল্লা জানান, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের এসব অনিয়ম তুলে ধরে বৃহস্পতিবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত আপত্তি জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, 'সার্বিকভাবে আমার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের রায়ের সঠিক প্রতিফলিত হয়নি। ভোট পুনর্গণনা হলে এসব অনিয়মের সত্যতা প্রকাশিত হবে ইনশা আল্লাহ। সঠিক ভোটসংখ্যা জানা যাবে।'

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অভিযোগ করেন যে গণনার সময় 'ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং' করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'গণনার সময় আমাদের প্রথম দিকের রেজাল্টগুলো সুন্দরভাবে আসছিল। হঠাৎ করে দেখা গেল, এক-দুই ঘণ্টা রেজাল্ট সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেল, প্রচার স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। অদ্যবধি পুনরায় আমাদের রেজাল্ট জানানো হয়নি।'

এজেন্টবিহীন ভোট ও আদালতের আশ্রয়

প্রার্থী আরও উল্লেখ করেন যে ভোট চলাকালে তার ৪০-৫০ জন এজেন্ট ছিলেন না, তাঁদের বের করে দেওয়া হয়েছে, যা এজেন্টবিহীন ভোটের শামিল। তিনি বলেন, 'প্রশাসনের সাহায্য চাওয়া হয়েছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রশাসন সঠিকভাবে সহযোগিতা করতে পারেননি বা উনারা (প্রশাসন) অনেক ক্ষেত্রে ভয়েও চলে গেছেন। আমাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেননি।'

বিভাগীয় নির্বাচন কমিশনে সমাধান না পেলে এ বিষয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দেন এনায়াত উল্লা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আপনাদের মাধ্যমে আমি অনতিবিলম্বে ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রেখে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানাচ্ছি।' এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।