খুলনার ছয় আসনে নির্বাচনী ফলাফল: অধিকাংশ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
খুলনা বিভাগের ছয়টি সংসদীয় আসনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে মাত্র ১২ জন প্রার্থী সফলতার মুখ দেখেছেন, যেখানে ২৬ জন প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী তাদের নিরাপত্তা জামানত রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুসারে, কোনো প্রার্থীকে তার জামানত ফেরত পেতে হলে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত বৈধ ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ ভোট পেতে হয়। এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়।
খুলনা-১ আসনের ফলাফল
খুলনা-১ আসনে ১২০টি কেন্দ্রে মোট ৩,০৭,১০৩ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। এখানে ২,১০,৮৯৯টি ভোট প্রদান করা হয়েছিল। জামানত রাখতে প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যা ছিল ২৬,৩৬২। বিএনপির প্রার্থী আমির এজাজ খান ১,২১,৩৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কৃষ্ণা নন্দী ৭০,৩৪৬ ভোট পান। এই আসনে আরও দশজন প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
খুলনা-২ আসনের ফলাফল
খুলনা-২ আসনে ১৫৮টি কেন্দ্রে ৩,৩৫,২৪৩ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ১,৮৯,২৮৪টি ভোট পড়েছে। জামানত রাখতে ন্যূনতম ২৩,৬৬০ ভোটের প্রয়োজন ছিল। জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল ৯৩,৭৮৯ ভোট নিয়ে বিজয়ী হন, অন্যদিকে বিএনপির নজরুল ইসলাম মনজু ৮৮,১৯৭ ভোট পান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমানুল্লাহ মাত্র ৭,২৯৮ ভোট পেয়ে তার জামানত হারান।
খুলনা-৪ আসনের ফলাফল
খুলনা-৪ আসনে ১৪৫টি কেন্দ্রে ৩,৭৮,৪৫৩ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। এখানে ২,৪৬,৮১৬টি ভোট প্রদান করা হয়। জামানত রাখতে প্রয়োজন ছিল ৩০,৮৫২ ভোট। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এস.কে. আজিজুল বারি হেলাল ১,২৩,১৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন ১,০৯,৫৩০ ভোট পান। এই আসনে দুইজন প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোটের সীমা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
খুলনা-৫ আসনের ফলাফল
খুলনা-৫ আসনে ১৫১টি কেন্দ্রে ৩,৯৭,৭০৩ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ২,৯৮,২০৯টি ভোট পড়েছে। জামানত রাখতে প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যা ছিল ৩৭,২৭৬। বিএনপির প্রার্থী আলী আজগর লবি ১,৪৮,৮৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পরওয়ার ১,৪৬,২৪৬ ভোট পান। এই আসনে দুইজন প্রার্থী তাদের জামানত রাখতে ব্যর্থ হন।
খুলনা-৬ আসনের ফলাফল
খুলনা-৬ আসনে ১৫৬টি কেন্দ্রে ৪,২৩,৩৩২ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ২,৮৮,১৯১টি ভোট প্রদান করা হয়। জামানত রাখতে প্রয়োজন ছিল ৩৬,০২৩ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ১,৫০,৭২৪ ভোট নিয়ে বিজয়ী হন, অন্যদিকে বিএনপির এসএম মনিরুল ইসলাম বাপ্পি ১,২৪,৭১০ ভোট পান। এই আসনে তিনজন প্রার্থী ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
খুলনা-৩ আসনের ফলাফল
খুলনা-৩ আসনে ১১৬টি কেন্দ্রে ২,৫৪,৪০৯ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ১,৫২,২৪৫টি ভোট পড়েছে, যা ৫৯.৮৪ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি নির্দেশ করে। জামানত রাখতে প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যা ছিল ১৯,০৩০। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রকিবুল ইসলাম বকুল ৭৪,৮৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ৬৬,০১০ ভোট নিয়ে রানার-আপ হন। এই আসনে আরও ছয়জন প্রার্থী ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ভোট অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
সর্বমোট ফলাফল
খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে মাত্র ৬ জন প্রার্থী বিজয়ী এবং ৬ জন রানার-আপ হয়েছেন। তবে ২৬ জন প্রার্থী, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ৬৮ শতাংশ, তাদের নিরাপত্তা জামানত রাখতে প্রয়োজনীয় এক-অষ্টমাংশ বৈধ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসক ও খুলনা-১, ২, ৪, ৫, এবং ৬ আসনের রিটার্নিং অফিসার এএসএম জামশেদ খন্দকার এবং খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও খুলনা-৩ আসনের রিটার্নিং অফিসার ফয়সাল কাদের বৃহস্পতিবার রাতে এই অনানুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছেন।
