পাবনায় বিএনপির দুই প্রার্থীর পরাজয় ও ভোট পুনর্গণনার দাবিতে উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি
পাবনায় বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয় ও ভোট পুনর্গণনার দাবি

পাবনায় বিএনপির দুই প্রার্থীর পরাজয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপির দুই 'হেভিওয়েট' প্রার্থীর পরাজয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। পাবনা-৩ (চাটমোহর-ফরিদপুর-ভাঙ্গুড়া) এবং পাবনা-৪ (আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী) আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয়ের পর ভোট পুনর্গণনার দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশ।

ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপির ঘেরাও কর্মসূচি

নির্বাচনের ফলাফল পুনর্গণনার দাবিতে ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাবনা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের নেতৃত্বে শুক্রবার দুপুর থেকে নেতাকর্মীরা পাবনা ডিসি অফিসে জড়ো হতে শুরু করেন।

পরবর্তীতে এই ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন পাবনা-৪ আসনের প্রার্থী ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবীব, পাবনা-৫ আসনের জয়ী প্রার্থী শাসসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফা আন্দোলনকারীদের অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর আশ্বাস দেন।

পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনের নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ

পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মাদ আলী আছগার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। ফলাফলে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ভোট পুনর্গণনার আবেদন জানিয়েছেন।

অপরদিকে, পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবীব পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৬ ভোট। এ আসনেও বিএনপি প্রার্থী ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও কর্তৃপক্ষের অবস্থান

এ বিষয়ে পরাজিত বিএনপি প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন ও হাবিবুর রহমান হাবীবের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কল রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পাবনা জেলা রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফলাফল পুনর্গণনার জন্য প্রার্থীপক্ষ থেকে করা আবেদন রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেছেন।

আবেদনটি বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছালে সেখান থেকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সবাইকে বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়ানো এবং গুজবে বিশ্বাস না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য ও সার্বিক পরিস্থিতি

পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় আছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

এই ঘটনা পাবনা জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ভোট পুনর্গণনার দাবি নিয়ে বিএনপির সরব ভূমিকা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।