ঝিনাইদহে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি অফিসে হামলা: ৪ জন গুরুতর আহত
ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শহরের থানা রোডস্থ অফিসে এ হামলা চালানো হয়, যাতে বাবা-ছেলেসহ মোট ৪ জন ব্যক্তি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত হন। আহতরা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক বলে জানা গেছে।
হামলার বিস্তারিত ও আহতদের তালিকা
হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জাবেদ আলী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বিএনপি কর্মী খোকন হোসেন এবং তার ছেলে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক ইবন হোসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ধানের শীষের কয়েকজন সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং এই সহিংসতা চালায়।
ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, যেখানে ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে রেফার্ড করা হয়। গুরুতর আহত ইবন হোসেনকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রার্থী ও পুলিশের বক্তব্য
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, "নির্বাচনের পরের দিন আমার নির্বাচনি অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। চিহ্নিত হামলাকারীরা অফিসে ঢুকে হামলা চালিয়েছে, কিন্তু তাদেরকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ।" তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই আসনের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে এবং এভাবে চলতে থাকলে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে। তিনি অবিলম্বে কালীগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
অন্যদিকে, কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।" তবে তার এই বক্তব্যের পরও স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশের বিলম্ব নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক উত্তেজনা
ঝিনাইদহ-৪ আসনে সর্বশেষ নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী আবু তালিব বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান। নির্বাচন-পরবর্তী এই হামলা রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এলাকায় সহিংসতা আরও বিস্তৃত হতে পারে।
এই ঘটনায় আহতদের পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে। নির্বাচনি সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
