ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে সংঘর্ষ: ২৫ জন আহত, পুলিশ মোতায়েন
ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচনী সংঘর্ষে ২৫ জন আহত

ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তীব্র সংঘর্ষ: ২৫ জন আহত

ঝিনাইদহ-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান এবং কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং একই পরিবারের বাবা-ছেলেও রয়েছেন।

সংঘর্ষের সময় ও স্থান

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কালিগঞ্জ ও মহেশপুর এলাকায় দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থক এবং ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে, যেখানে দুপক্ষই একে অপরের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

ক্ষয়ক্ষতি ও হামলার ঘটনা

সংঘর্ষ চলাকালে কাপ-পিরিচ প্রতীকের একটি নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া, মহেশপুর প্রেস ক্লাব কার্যালয়েও হামলা চালিয়ে সেখানে থাকা আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়। স্থানীয় জামায়াত নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হন এবং তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। আহতদের মধ্যে ১৪ জনের নাম নিশ্চিতভাবে জানা গেছে, যারা হলেন:

  • জোবায়ের
  • তৌহিদ আলম
  • জাবেদ রহমান
  • ইভন
  • খোকন
  • আমীর হোসেন
  • মোশাররফ হোসেন
  • মশিয়ার রহমান
  • রবিউল ইসলাম
  • ইব্রাহিম হোসেন
  • ইমন রহমান
  • রিয়াজ উদ্দিন

আহতদের মধ্যে আমীর হোসেন নলডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির পদে রয়েছেন, এবং খোকন ও ইভন সম্পর্কে বাবা-ছেলে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

চিকিৎসা ও পুলিশি ব্যবস্থা

সংঘর্ষে আহত ২৫ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখান থেকে কয়েকজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সর্বশেষ বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। কালিগঞ্জ ও মহেশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

প্রার্থীদের বক্তব্য

কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ করে বলেন, "বিনা উস্কানিতে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাইনি।" অন্যদিকে, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, "উনি (সাইফুল ইসলাম ফিরোজ) কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না মেনে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে হারাতে নির্বাচন করেছে। ফলাফল ঘোষণার পর উদ্দেশ্যেমূলকভাবে আমাদের ওপর হামলা করেছে।"

পুলিশের প্রতিক্রিয়া

কালিগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, "সহযোগিতা না করার অভিযোগ সত্য নয়; সবদিকেই নির্বাচনের কাজের চাপ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক এই ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

নির্বাচনী পটভূমি

ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, কিন্তু পরে সেখানে ধানের শীষের মনোনয়ন পান রাশেদ খান। অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. আবু তালিব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। এই ফলাফলকে কেন্দ্র করেই দুপক্ষের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়, যা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।