কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ছোট ভাইয়ের জয়, বড় ভাইয়ের পরাজয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজীবপুর) আসনে একটি অনন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে, যেখানে ছোট ভাই বড় ভাইকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ২১০ ভোট পেয়েছেন।
ভোটের ফলাফল ও ব্যবধান
মোস্তাফিজুর রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তাঁর বড় ভাই বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান, যিনি ধানের শীষ প্রতীকে ৮৪ হাজার ৪২৩ ভোট পেয়েছেন। এই ফলাফলে দুই ভাইয়ের মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৭৮৭টি। কুড়িগ্রাম রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক বেসরকারিভাবে জামায়াত প্রার্থীর জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া
গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট শেষে গণনা কাজ সম্পন্ন করে জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ গত রাত তিনটার দিকে সব আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন, যেখানে পোস্টাল ব্যালটে বৈধ ভোট পড়েছে ২ হাজার ৮৪৫টি এবং ভোটের হার ছিল ৬২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও অঙ্গীকার
ফলাফল ঘোষণার পর শুক্রবার সকালে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'রাজনীতির মাঠে আমার বড় ভাই গুরুজন। তাঁকে সঙ্গে নিয়েই এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে চাই। এ জয়-পরাজয় যেন পারিবারিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব না ফেলে—এ জন্য আমি সবার দোয়া কামনা করি।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জনগণ উন্নয়ন ও নীতির পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'এখন আমি সবার প্রতিনিধি হয়ে সেবা করতে চাই। দল–মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব। আমার বড় ভাই রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ। একসময় আমি তাঁর হাত ধরেই রাজনীতি শুরু করেছিলাম।' তিনি বড় ভাইয়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথাও জানান।
অন্যান্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণ
এ নির্বাচনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। তবে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল দুই ভাইয়ের মধ্যে, যা এই আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হয়ে থাকবে।
