ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয়, জামায়াত বিরোধী দলে
দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একটানা ভোটগ্রহণ চলেছে। প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত ২৬৩টি আসনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
দলওয়ারি ফলাফল
প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি ও তাদের জোট প্রার্থীরা ১৯২টি আসনে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ৬৫টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া, ৫টি আসনে জয় জুটেছে অন্যান্য দলের প্রার্থীদের কপালে এবং একটি আসন গেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দখলে।
এই ফলাফলের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে যে, বিএনপির নেতৃত্বেই গঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আগামী সরকার। ফলে, প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই সরকারপ্রধান হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াত।
উল্লেখযোগ্য আসনের ফলাফল
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকা-১৫ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ৮২ হাজার ৬৪৫ ভোট পেয়েছেন, অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল ইসলাম মিল্টন পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯২০ ভোট।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ৭২ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। কক্সবাজার-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
জেলাওয়ারি বিজয়
বিএনপি জামালপুর জেলার ৫টি আসনেই দাপুটে জয় পেয়েছে। হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসনেরই ফল গেছে বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে। লালমনিরহাটের ৩টি আসনেও বিএনপি জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই জয়ী হয়েছে। নীলফামারী জেলার ৪টি আসনেও জামায়াত বিশাল বিজয় অর্জন করেছে।
স্থগিত আসন ও নির্বাচন পরিসংখ্যান
ফল নির্ধারণ হয়ে গেলেও মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় তিনটি আসনের ফল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আসনগুলো হলো— শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত ছিল।
এই নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে, যেখানে প্রথমবারের মতো গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে এবং বিএনপি সরকার গঠনের পথে এগিয়ে গেছে।
