চট্টগ্রামে বিএনপির জয়জয়কার: ২০০১ সালের পর সর্বোচ্চ সাফল্য
চট্টগ্রাম বিভাগের ১৬টি সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৯টি আসনে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা, আরও তিনটি আসনে তারা এগিয়ে রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। অবশিষ্ট দুটি আসনের ফলাফল আদালতের নির্দেশনায় স্থগিত রয়েছে। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবারই চট্টগ্রামে বিএনপির এমন চমকপ্রদ ফলাফল দেখা গেছে।
নগরের চার আসনে বিএনপির আধিপত্য
চট্টগ্রাম নগরের চারটি আসনের মধ্যে দুটিতে জয়লাভ করেছেন এবং বাকি দুটিতে এগিয়ে আছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর এ কে এম ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৮০৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে এগিয়ে আছেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-৫ আসনে যথাক্রমে সাঈদ আল নোমান ও মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এগিয়ে রয়েছেন।
জেলার ১২ আসনে বিএনপির শক্তিশালী উপস্থিতি
চট্টগ্রাম জেলার ১২টি আসনের মধ্যে ৭টিতে জিতেছেন বিএনপির প্রার্থীরা, একটিতে এগিয়ে আছেন, দুটি স্থগিত আছে এবং জামায়াতে ইসলামী জিতেছে দুটিতে। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপির নুরুল আমিন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোস্তফা কামাল পাশা ৭২ হাজার ৩৫৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে হুমাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১ হাজার ৪৪৫ ভোট পেয়েছেন। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে মোহাম্মদ এনামুল হক ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে সরওয়ার জামাল নিজাম ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৬০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে জসীম উদ্দীন আহমেদ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর দুটি আসনে জয়
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী ১ লাখ ৭২ হাজার ৬১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ৯৩ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন।
আদালতের নির্দেশনায় দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) ও চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থীদের ফলাফল প্রকাশ আদালতের নির্দেশনায় স্থগিত রয়েছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থীর করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। উভয় ক্ষেত্রেই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যার পর থেকে ফল ঘোষণা করতে শুরু করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এই নির্বাচনে চট্টগ্রামে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আগামী দিনের রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।
