জামায়াত নেতার তীব্র অভিযোগ: নির্বাচনে ফল ঘোষণায় বিলম্ব ও শিট পরিবর্তন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফল ঘোষণা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিলম্ব ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
ফল ঘোষণায় অস্বাভাবিক বিলম্বের অভিযোগ
জুবায়ের বলেন, ভোটগণনা বিকেল ৫টার দিকে শুরু হলেও গভীর রাত পর্যন্ত কিছু আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘আমাদের এজেন্টদের পাওয়া শিট অনুযায়ী রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই ফল ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু অস্বাভাবিক বিলম্ব করা হয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা-১৭ আসনসহ কয়েকটি আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা শিট পরিবর্তন ও ওভাররাইটিংয়ের ঘটনা ঘটেছে।
শিট পরিবর্তন ও ভোট কমানোর দাবি
জুবায়েরের দাবি অনুযায়ী, ‘প্রথমে যে শিটে স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছিল, পরে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। কমপক্ষে আটটি শিটে পরিবর্তন হয়েছে। কাটাকাটির আগে যে যোগফল ছিল, পরে ওভাররাইটিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার ভোট কমানো হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ‘ঢাকার প্রায় সব আসনেই আমাদের প্রার্থী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ফল ঘোষণায় গড়িমশি করা হচ্ছে,’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ উদ্দেশ্য ও আইনি পদক্ষেপের হুমকি
জুবায়ের আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য এই কাজগুলো করা হচ্ছে। আমরা কমিশনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব, তাঁদের বক্তব্য শুনব। প্রয়োজন হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর প্রার্থী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। ‘জনগণের ভোটাধিকার যদি চক্রান্তের মাধ্যমে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে আমরা কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব,’ বলেন তিনি।
নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা
নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জুবায়ের বলেন, ‘প্রথমে কমিশনের ব্যাখ্যা শোনা হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তাঁর এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
