ভৈরবে ভোট গণনায় বিলম্বে উত্তেজনা: বিজিবি গাড়িতে হামলা, সদস্য আহত
ভৈরবে ভোট গণনায় বিলম্বে বিজিবি গাড়িতে হামলা

ভৈরবে ভোট গণনায় বিলম্বে উত্তেজনা: বিজিবি গাড়িতে হামলা, সদস্য আহত

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নে একটি ভোটকেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণায় বিলম্বের কারণে উত্তেজিত জনতা বিজিবির গাড়িতে হামলা চালিয়েছেন। এ সময় গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয় এবং বিজিবির এক সদস্য মারধরের শিকার হয়ে আহত হন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটায় সাদেকপুর ইউনিয়নের মৌটুপি গ্রামের মনোহরপুর সেরবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

ওই ভোটকেন্দ্রে বিকাল সাড়ে চারটায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রিসাইডিং অফিসার এজেন্টসহ সবার উপস্থিতিতে ভোট গণনা শুরু করেন। তবে, এর আগে দুপুরে নির্বাচনী আচরণ ভঙ্গের অভিযোগে এই ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি মো. আসমত মিয়াকে বিজিবি আটক করে একটি স্কুলের কক্ষে বন্দি করে রাখে। রাত সাতটা পর্যন্ত ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় স্থানীয় জনতা ক্রমশ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

ঘটনার সময় কেন্দ্রের নিরাপত্তা দায়িত্বে ছিলেন বিজিবি সদস্যরা, আর ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক। ভোট গণনা শেষে রাত সাড়ে সাতটার দিকে ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজিবির নেতৃত্বে প্রিসাইডিং অফিসার প্রভাষক ওমর ফারুক ফলাফলের ব্যালট ও কাগজপত্র নিয়ে উপজেলার নির্বাচনী ফলাফল কেন্দ্রে রওনা হওয়ার সময় গাড়িতে আসমত মিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ সময় উত্তেজিত জনতা আসমত মিয়াকে গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে এবং বিজিবির গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে এক সদস্যকে মারধর করে আহত করে। প্রিসাইডিং অফিসার ওমর ফারুক ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন, "সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়, যা এলাকাবাসীকে উত্তেজিত করে তোলে।"

ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া

দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও বিজিবি সদস্য আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে, তিনি আসমত মিয়াকে জনতা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "তাকে জনতা ছিনিয়ে নেয়নি, বরং বয়সের কথা বিবেচনায় আমরা তাকে ছেড়ে দিয়েছি।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "মৌটুপি গ্রামের মানুষ আগে থেকেই উচ্ছৃঙ্খল ও সন্ত্রাসী প্রবণতা দেখায়। তাদের ধৈর্য কম, এবং ভোট গণনায় স্বাভাবিক বিলম্ব হতে পারে। কিন্তু তারা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে হামলা চালিয়ে অপরাধ করেছে।" এই ঘটনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সংঘটিত হয়, যা স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়।

সামগ্রিকভাবে, ভৈরব উপজেলার এই ঘটনা ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় সময়ানুবর্তিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়হীনতা এবং জনগণের অসহিষ্ণুতা এই সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।