নির্বাচনে ফলাফল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার জরুরি সংবাদ সম্মেলন
ফলাফল টেম্পারিং অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের জরুরি সংবাদ সম্মেলন

নির্বাচনে ফলাফল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার জরুরি সংবাদ সম্মেলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কিছু কিছু আসনে ফলাফল টেম্পারিং বা জালিয়াতির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

অভিযোগের মূল বক্তব্য

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, "আমরা অত্যন্ত শঙ্কার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, কিছু কিছু আসনে ফলাফল টেম্পারিং করার এক ধরনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।" তিনি ব্যাখ্যা করেন, যখন দেখা গেছে যে কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থীরা হেরে যাচ্ছেন এবং ১১ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল, তখনই তাদের হারানোর উদ্দেশ্যে এই কারচুপির চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, "এর স্পষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।"

নির্দিষ্ট আসনের উদাহরণ

তিনি ঢাকা-১৭ আসনের উদাহরণ টেনে বলেন, "৫০টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষ না হতেই একজনকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেওয়া হলো।" এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে জামায়াতের আমিরের আসন, নাগরিক পার্টির আসন এবং খেলাফত মজলিসের আমিরের আসনে বিশেষভাবে এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। মিরপুর বা ঢাকা-১৬ আসনেও একই চিত্র দেখা গেছে বলে তিনি জানান।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নির্বাচন কমিশনকে জোর দাবি জানিয়েছেন, "এই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে আমলে নিতে হবে এবং সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর চূড়ান্ত ফলাফল যেন ঘোষণা করা না হয়।" তিনি বলেন, এটি কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, বরং সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করার লক্ষ্যেই এ ধরনের কাজ করা হচ্ছে।

অন্যান্য তথ্য

সংবাদ সম্মেলনের আগে, তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী ৫টি আসনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থীরা জয় নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া আরও অসংখ্য আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ঘটনাটি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে একটি বিতর্কিত ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।