রাজশাহীতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৫৭.৮৪% ভোট, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন
রাজশাহীতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৫৭.৮৪% ভোট পড়েছে

রাজশাহীতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: উৎসবমুখর পরিবেশে ৫৭.৮৪% ভোট পড়েছে

রাজশাহী বিভাগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এর ভোটগ্রহণ উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সাধারণ ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

ভোটের হার: রাজশাহী জেলায় সর্বোচ্চ ৭০.৫৫%

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, বিভাগের আট জেলায় গড়ে ৫৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের তথ্যমতে, সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে রাজশাহী জেলায়, যেখানে ভোট গ্রহণের হার ৭০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। অন্যদিকে নাটোর জেলায় সর্বনিম্ন ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

বিভাগের অন্যান্য জেলার ভোটের হার নিম্নরূপ:

  • জয়পুরহাট: ৫৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ৫৫ শতাংশ
  • সিরাজগঞ্জ: ৬১ দশমিক ০৮ শতাংশ
  • নওগাঁ: ৫২ দশমিক ৫০ শতাংশ
  • বগুড়া: ৫৭ দশমিক ১৫ শতাংশ
  • পাবনা: ৫৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ

অপ্রীতিকর ঘটনা: স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগমের ওপর হামলা

ভোটগ্রহণকালে বেশকিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগমকে ভোটকেন্দ্রের সামনে চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে পবার নলখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হাবিবা বেগম ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং তিনি মোহনপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, যিনি মারধর করছিলেন তার নাম রজব আলী, যিনি পবার হরিয়ান ইউনিয়নের ১ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি। রাজশাহীর কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোট চাওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার কথা শুনেছেন, কিন্তু মারধরের ঘটনা তার জানা নেই।

ভোটকেন্দ্রে সমস্যা: নামের ভুলে নারী ভোটাররা বঞ্চিত

রাজশাহী-২ (সদর) আসনের কাজলা কেন্দ্রে নামের ভুলে অনেক নারী ভোট দিতে পারেননি। রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার তালিকায় থাকা নামের সঙ্গে ভোটারের এনআইডির নামের মিল না থাকায় অনেককেই ভোট না দিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।

সংখ্যালঘু নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ

অপরদিকে, রাজশাহীর ভোটকেন্দ্রে সংখ্যালঘু নারীদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে। রাজশাহীর ছয়টি আসনেই বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী-৩ আসনের নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

প্রার্থী ও ভোটার পরিসংখ্যান

রাজশাহীতে মোট সংসদীয় আসন ছয়টি এবং ছয় আসনে মোট প্রার্থী ৩১ জন। ভোটের মাঠে শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা, যাদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।

প্রার্থীদের তালিকা:

  1. রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর): বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন ও জামায়াতের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
  2. রাজশাহী-২ (সদর): বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু ও জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর
  3. রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর): বিএনপির শফিকুল হক মিলন ও জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ
  4. রাজশাহী-৪ (বাগমারা): বিএনপির ডিএমডি জিয়াউর রহমান ও জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী সরদার
  5. রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর): বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও জামায়াতের নজরুল ইসলাম
  6. রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট): বিএনপির আবু সাঈদ চাঁদ ও জামায়াতের নাজমুল হক

রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২২ লাখ ৯১ হাজার ২০১ জন। এর মধ্যে নারী ১১ লাখ ৫২ হাজার ৫০৮ জন, পুরুষ ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৩৭ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২৮ জন। জেলার ৯টি উপজেলা ও মহানগরে সব মিলিয়ে ৭৭৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।