শেরপুরের দুই আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা এগিয়ে, নির্বাচনে রেকর্ড অংশগ্রহণ
শেরপুর-১ (সদর) ও শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা ভোট গণনায় এগিয়ে আছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, শেরপুর-১ আসনের ১৪৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম ২৯,৬২৭ ভোট পেয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা ধানের শীষ প্রতীকে ১৫,১৮৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর ইসলাম (মাসুদ) মোটরসাইকেল প্রতীকে ১৩,৪৭২ ভোট পেয়েছেন।
শেরপুর-২ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
শেরপুর-২ আসনে দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। আসনটির ১৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতের মু. গোলাম কিবরিয়া ৪০,০১৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। বিএনপির ফাহিম চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ৩৮,৮৪৫ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ভোটের ফলাফল এখনও চূড়ান্ত নয় এবং অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ফলাফল আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণভোট
এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশের ৪২,৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন দেশজুড়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
ভোটারদের উৎসাহ ও অংশগ্রহণ
নির্বাচনের সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ভোটাররা উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে তাদের রায় প্রদান করেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রেকর্ডসংখ্যক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই রেকর্ডসংখ্যক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল এই নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ২,০২৯ জন; যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১,৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৪ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮০ জন। এবারের নির্বাচনে মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় বেশি।
এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যেখানে বহুদলীয় প্রতিযোগিতা ও ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। শেরপুরের আসনগুলোর ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার পর পুরো দেশের নির্বাচনী চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
