ভালুকায় ভোটকেন্দ্রে ৫ তরুণের ব্যালট পেপারে সিল মারা, ধরা পড়ল সিসিটিভিতে
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একটি ভোটকেন্দ্রে পাঁচজন তরুণ ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সে ভরার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের লোহাবৈ বরাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা পরিষদের কন্ট্রোল রুমে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ভিডিওতে এ দৃশ্য ধরা পড়ে, যা পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলা আড়াইটার পর পাঁচজন তরুণ ওই ভোটকেন্দ্রের একটি বুথে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল মারতে শুরু করেন। বুথে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মী উপস্থিত ছিলেন না বলে তারা সহজেই এ কাজ করতে সক্ষম হন। ১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন ব্যালট পেপারে সিল মারছেন, অন্য তিনজন সেগুলো ভাজ করে বাক্সে ভরছেন। আরও তিনজন ব্যক্তিকে সেখানে দেখা গেছে, যদিও তাদের ভূমিকা স্পষ্ট নয়।
কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ
সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পরপরই পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন জানান, যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, ওই কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কিছুটা দুর্বলতা ছিল। তাকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তারা সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০টি ব্যালট পেপারে সিল মেরে থাকতে পারেন।
আইনি দিক
ফিরোজ হোসেন আরও বলেন, নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ব্যালট পেপারে যদি সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর না থাকে, তাহলে সেটি অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, অবৈধ ব্যালট পেপার গণনা করার কোনো সুযোগ নেই, এবং কর্তৃপক্ষ সেগুলো গণনা করবে না। ঘটনাস্থলে ভোটগ্রহণ আধঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হয়, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে সাহায্য করে।
প্রতিক্রিয়া ও পরিণতি
এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এটি নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে, বিশেষ করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মতো জাতীয় পর্যায়ের ইভেন্টে।
