নাতির কোলে চড়ে শতবর্ষী বৃদ্ধার শেষ ভোট: নেত্রকোনার মদনে ইতিহাসের অংশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্যেই নেত্রকোনার মদন উপজেলায় একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা সকলের নজর কেড়েছে। শতবর্ষী বৃদ্ধা নারী পুতুলা আক্তার নাতি সাদ্দামের কোলে চড়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে জীবনের শেষ ভোট দিয়েছেন, যা গণতন্ত্রের প্রতি তার অটুট বিশ্বাস ও দৃঢ় মনোবলের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ভোটকেন্দ্রে এক অনন্য দৃশ্য
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুপুরে মদন উপজেলার বালালী বাঘমারা শাহজাহান কলেজ কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছিল। সেই ভিড়ের মধ্যেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন শতবর্ষী বৃদ্ধা পুতুলা আক্তার, যিনি নাতির কোলে চড়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এই দৃশ্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও অন্যান্য ভোটারদের মধ্যে এক বিশেষ আবহ তৈরি করে।
এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ
প্রায় এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পুতুলা আক্তার নাতি সাদ্দামের সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান। নিজের ইচ্ছাশক্তি ও দৃঢ় প্রত্যয়ে তিনি নাতির কোলে চড়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সহায়তা নিয়ে ভোটকক্ষে প্রবেশ করেন এবং নিজের ভোটাধিকার সফলভাবে প্রয়োগ করেন। এই প্রক্রিয়ায় তার নাতি সাদ্দামের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
শেষ ভোট হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি
ভোট দেওয়ার পর পুতুলা আক্তার বলেন, "আমার খুব ইচ্ছা ছিল ওই ভোট আমি কেন্দ্রে গিয়ে দেব। অবশেষে আমার নাতি সাদ্দাম আমার ইচ্ছা পূরণ করেছে। হয়ত এই ভোট আমার জীবনের শেষ ভোট।" তার এই উক্তি শুধু ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষারই নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ঘটনা দেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে স্থান পেয়েছে।
এই ঘটনা শুধু একটি ভোট দেওয়ার গল্পই নয়, বরং এটি মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পারিবারিক সহযোগিতা এবং গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের এক জীবন্ত উদাহরণ। মদন উপজেলার এই শতবর্ষী বৃদ্ধার ভোটদান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে, যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
