৯০ বছর বয়সেও ভোটদানে উৎসাহী ডাক্তার আবু মুসা
ঢাকার দোলাইরপাড় উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকালে এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন ভোটাররা। ৯০ বছর বয়সী প্রবীণ ভোটার আবু মুসা ভোট দিতে এসেছেন। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও, তাঁর মনোবল এখনো অটুট। এক হাতে লাঠি ধরে, অন্য হাত নাতি রুবেলের হাতে রেখে ধীরে ধীরে তিনি স্কুল ভবনের সিঁড়ি বেয়ে ভোটকক্ষে পৌঁছান।
'আমি ছিলাম ডাক্তার, ভোট দিতে ভালো লেগেছে'
প্রথম আলোর সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবু মুসা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্যারামেডিক্যাল হিসেবে কাজ করেছেন। '১৯৬৫ সালে এই পেশা শুরু করি'—বলেন জড়ানো কণ্ঠে এই প্রবীণ নাগরিক। বর্তমানে শারীরিক কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও, ভোটদানের প্রতি তাঁর আগ্রহ দেখে সকলেই মুগ্ধ। 'ভোট দিতে ভালো লেগেছে, ভয় কিসের?'—এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি যেন সকল প্রবীণ ভোটারকে উদ্বুদ্ধ করতে চান।
শারীরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভোটদান
আবু মুসার বর্তমান স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এখন চোখে দেখি না। কানেও কম শুনি। নিজেরই ডাক্তারের কাছে যাওন লাগে।' কিন্তু এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁকে ভোটদান থেকে বিরত রাখতে পারেনি। নাতি রুবেলের সহায়তায় তিনি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান এবং সফলভাবে ভোটদান সম্পন্ন করেন। বৃদ্ধাঙ্গুলিতে কালির ছাপ দেখিয়ে তিনি প্রমাণ করেন যে, তিনি গণভোট ও দলীয় প্রতীক—উভয় ভোটই দিয়েছেন।
নাতির সহায়তা ও ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ
আবু মুসার সঙ্গে থাকা যুবক রুবেল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমার এলাকার লোক হয়। নাতিই হয়, এলাকার লোক।' রুবেলের সহায়তায় তিনি ভোটকেন্দ্রে আসা-যাওয়া এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ সম্পর্কে আবু মুসা বলেন, 'ভোট সুন্দর হইছে। সবাই ভালো সার্ভিস দিছে, সরকারের লোকও…সে জন্য।' তাঁর এই মন্তব্য ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রবীণ ভোটারদের জন্য অনুপ্রেরণা
আবু মুসার এই ভোটদান কেবল একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, বরং এটি সমাজের সকল প্রবীণ নাগরিকের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে তাঁর এই অদম্য আগ্রহ যুবসমাজকেও ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। ঢাকা-৪ আসনের দোলাইরপাড় এলাকার এই ঘটনা জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এ প্রবীণ ভোটারদের অংশগ্রহণের গুরুত্বকে আরও সুস্পষ্ট করে তোলে।
