ভোলা-২ আসনে নির্বাচনী অভিযোগ: এজেন্ট নিখোঁজ, হামলা ও জাল ভোটের অভিযোগ
ভোলা-২ (দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একাধিক নির্বাচনী অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে। জামায়াতে ইসলামী দলটি বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন এজেন্টের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে। এছাড়াও, গতকাল বুধবার থেকে দলটির কর্মীদের হুমকি-ধমকি ও মারধরের অভিযোগও উঠেছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
নিখোঁজ এজেন্ট ও অপহরণের অভিযোগ
জামায়াতে ইসলামীর বোরহানউদ্দিন উপজেলা আমির মাকসুদুর রহমান জানান, হাসাননগর ইউনিয়নের হাসাননগর সেরাজিয়া দাখিল মাদ্রাসার ১, ২ ও ৩ নম্বর কেন্দ্রের তিন এজেন্টকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, সকাল সাতটার দিকে কেন্দ্রে যাওয়ার পথে তাদের অপহরণ করা হতে পারে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন হাসাননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ সানাউল্লাহর ছেলে মাকসুদুর রহমান, অলিউল্লাহর ছেলে মো. নোমান ও আব্দুল মান্নান।
অন্যান্য কেন্দ্রে সংঘর্ষ ও বাধার অভিযোগ
এছাড়াও, কাচিয়া ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। কুতুবা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির কর্মীরা জামায়াতের ভোটারদের ওপর চড়াও হলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়। বোরহানউদ্দিন উপজেলার আব্দুল জাব্বার কলেজ কেন্দ্র থেকে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল হালিমকে আটক করা হয়েছে, যিনি এক ভোটারকে একসঙ্গে দুটি ব্যালট পেপার দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তজুমদ্দিন ও ভোলা সদরে হামলা ও বাধার ঘটনা
তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গোলকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াত কর্মী আব্বাসের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ভোলার সদর উপজেলার রতনপুর বিদ্যালয় কেন্দ্রে গরুর গাড়ি প্রতীকের সমর্থকরা হাতপাখা ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া, ভোলা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা
ভোলা-২ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন জানান, ভোটারদের অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুল হালিমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর স্থলে অন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভোলা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শামিল রহমান বলেন, সব অভিযোগ আমলে নেওয়া হচ্ছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
