রংপুর-৪ আসনে ভোটকেন্দ্রে প্রার্থী অবরুদ্ধ, বিএনপি-এনসিপি বিতর্ক
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একটি ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ মডেল ডিগ্রি কলেজ ভোটকেন্দ্রে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী আখতার হোসেনকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে।
এনসিপি নেতার তীব্র অভিযোগ
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, ভোট গ্রহণ শেষে তিনি কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে বিএনপির কর্মীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। তিনি বলেন, 'আমি একজন প্রার্থী, ভোট গণনার সময় উপস্থিত থাকতে পারি। কোন কেন্দ্রে কতটা ভোট গ্রহণ হয়েছে, সেটা জানার জন্য বিভিন্ন কেন্দ্রে যেতে পারি। দুর্ভাগ্যের বিষয়, হারাগাছ মডেল ডিগ্রি কলেজ ভোটকেন্দ্রে এসে ঢোকার পর বিএনপির হাজারের মতো কর্মী আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তাঁরা আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। আমি যখন বের হয়ে আসতে চাই, তাঁরা আমাকে জীবননাশের হুমকি দেন।'
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ
রংপুর মহানগর এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর নয়ন জানান, তাঁরা অন্তত ২০ মিনিট অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেখান থেকে যাওয়ার পথে বিএনপির সমর্থকেরা তাঁদের গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন, যা নির্বাচনী সহিংসতার একটি উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএনপির পাল্টা দাবি
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব না হলেও, তাঁর নির্বাচনী ব্যক্তিগত সহকারী মোস্তাকিন কিরণ একটি পাল্টা বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আখতার হোসেনকে অবরুদ্ধ করা হয়নি; বরং তিনি কেন্দ্রে এসে বিএনপির কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। মোস্তাকিন কিরণ অভিযোগ করেন, আখতার হোসেনের লোকজন বিএনপির প্রার্থীর গাড়ির কাচ ভেঙে দিয়েছেন, যা ঘটনার একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরে।
পুলিশের বক্তব্য
হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনার একটি নিরপেক্ষ বিবরণ দিয়ে বলেন, '(আখতার) ওখানে গিয়েছিল, লোকজন গেদারিং করেছিল। আমরা গেলে লোকজন খালি হয়ে যায়। আমরা জাস্ট ওনার গাড়িকে সাপোর্ট করেছি। ওনি বের হয়ে গেছে।' এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে, তবে ঘটনার সঠিক কারণ নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনা রংপুর-৪ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীর অবরুদ্ধ হওয়া এবং পরবর্তীতে গাড়ি ভাঙচুরের মতো ঘটনাগুলো নির্বাচনী শান্তি ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়।
এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই ধরনের ঘটনা নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করতে পারে, যাতে ভোটারদের আস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষিত হয়।
