১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন সত্তরোর্ধ্ব সালেহা খাতুন
জীবনের বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী সত্তরোর্ধ্ব সালেহা খাতুন। দেশের নানা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন দেখেছেন তিনি। বর্তমানে কিছুটা অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি ইসলামিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে উপস্থিত হন। তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে অংশ নেওয়া। ভোটকেন্দ্রে আসতে কিছুটা কষ্ট হয়েছে বলেও জানান সালেহা খাতুন, তবে সেই কষ্টকে তিনি বড় করে দেখেননি।
শারীরিক দুর্বলতা মোকাবিলা করে ভোট দিলেন
সালেহা খাতুনের শরীরে আগের মতো শক্তি নেই, চামড়ায় ভাঁজ পড়ে গেছে, কিন্তু মনে সাহস এখনও অটুট। তিনি বলেন, '১৭ বছর ভোট দিতে পারিনি। শেষ বয়সে ভোট দিতে এসেছি; কারণ, চাই দেশটা ভালো থাকুক। আমার সন্তান-নাতিদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হোক। আমার পরিবারের ছয়জন ভোটার। আমি আগে দিয়ে চলে যাচ্ছি, বাকিরা পরবর্তী সময়ে দিয়ে যাবে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি চাই আমার ভোটটা যেন দেশের কাজে লাগে।'
ইসলামিয়া স্কুল কেন্দ্রের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ
ইসলামিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ শান্ত ও সুশৃঙ্খল। এই কেন্দ্রে শুধুমাত্র নারী ভোটাররা অংশগ্রহণ করেছেন। ইসলামিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে মোট দুটি কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে প্রথম কেন্দ্রে ২ হাজার ৪৯৩ জন ভোটার এবং দ্বিতীয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৫০০ জন ভোটার নিবন্ধিত।
দেশের উন্নয়ন ও শান্তির প্রত্যাশা
সালেহা খাতুন বলেন, 'আমরা অনেক কষ্ট করে জীবন পার করেছি। এখন চাই দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক, দেশের উন্নয়ন হোক, আমাদের সমস্যা সমাধান করে দিক।' তাঁর প্রত্যাশা, নতুন সরকার সাধারণ মানুষের কথা ভাববে এবং বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তাঁর মুখে তৃপ্তির হাসি দেখা গেছে। তিনি বলেন, 'আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। এখন আল্লাহ ভরসা, যেন ভালো কিছু হয়।'
প্রবীণ ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ
এই কেন্দ্রে তরুণ ভোটারদের পাশাপাশি প্রবীণদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। সালেহা খাতুনের মতো প্রবীণ অনেকেই সকাল সকাল কেন্দ্রে এসে ভোট প্রয়োগ করেছেন। বেশির ভাগ পরিবারের আত্মীয়স্বজনের সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে এসেছেন প্রবীণরা। সবার মুখে হাসি ও আনন্দের ছাপ স্পষ্ট ছিল।
প্রবীণ ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তা
নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রবীণ ভোটারদের জন্য আলাদা সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তাঁরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। ইসলামিয়া স্কুল ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, 'সকাল থেকেই আমাদের কেন্দ্রে প্রবীণ ভোটারদের দেখার সুযোগ হয়েছে। প্রবীণ নারীদের জন্য আনসারের নারী সদস্যরা ভোটকক্ষে এগিয়ে দিয়ে আসছেন। তাঁদের ভোটকেন্দ্রে দিয়ে আসাসহ ভোট দেওয়ার পর কক্ষ থেকে করে নিয়ে আসছেন।'
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা
এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান। ভোটারদের অংশগ্রহণ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
