সাতক্ষীরায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন
সাতক্ষীরায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জেলার ৬০৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে এখন গণনা চলছে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল সংকলনের কাজ করা হচ্ছে।
ভোটের হার ও উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার (এসপি) আরেফিন জুয়েল বিকাল সাড়ে ৫টায় গণমাধ্যমকে জানান, জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো এবং বিশেষ করে কলারোয়া ও তালা উপজেলায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মুগ্ধ করেছে।
উপজেলাভিত্তিক ভোটের হার নিম্নরূপ:
- সাতক্ষীরা সদর উপজেলা: ৭০.৯৩ শতাংশ
- দেবহাটা উপজেলা: ৭২.৫০ শতাংশ
- কলারোয়া উপজেলা: ৮১.৮৯ শতাংশ
- তালা উপজেলা: ৭৫ শতাংশ
- আশাশুনি উপজেলা: ৬৮.৭৮ শতাংশ
- শ্যামনগর উপজেলা: ৬৮ শতাংশ
- কালীগঞ্জ উপজেলা: ৭১.৯৮ শতাংশ
সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিকাল সাড়ে ৪টায় ৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে। জেলার সাতটি উপজেলায় ভোটারদের উপস্থিতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত এবং মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৪২৪ জন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনের অবস্থান
পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন ছিল, যা কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, জেলার কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং ভোটগ্রহণ পরবর্তী সময়ে যেকোনও ধরনের সহিংসতা রোধে পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফল ঘোষণা পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সফল করেছে। পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলে।
সাতক্ষীরার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল সংকলনের কাজ চলছে। নির্বাচনটি কঠোর নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
