নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভোটকেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ব্যালটে সিল মারার ঘটনায় অব্যাহতি
নোয়াখালী ৬ আসনের হাতিয়া উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল মারার অভিযোগ উঠেছে একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হাতিয়া শহর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা রিজিয়া সুলতানাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাকে ওই ভোটকেন্দ্রে আটক রাখা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও ভিডিও প্রমাণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরের দিকে ওই কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রিজিয়া সুলতানা প্রকাশ্যে ভোটারের ব্যালট পেপারে সিল মারছিলেন। ঘটনাটি ভোটকক্ষে উপস্থিত একজন ব্যক্তি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে আনেন।
ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, ওই নারী সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পরপর দুজন ভোটারের ব্যালট পেপারে ভোটারের স্বাক্ষর ও টিপসই নেওয়ার পর নিজেই পছন্দের প্রতীকে সিল মারছেন। এই দৃশ্য ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
অভিযুক্তের বক্তব্য ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
অভিযুক্ত সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রিজিয়া সুলতানা তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তিন মাস বয়সের নবজাতক সন্তানকে নিয়ে আসা একজন নারী ভোটারের অনুরোধে তিনি তাঁর ব্যালটে সিল মেরে দেন। সিল মারার আগে তিনি উপস্থিত পোলিং কর্মকর্তা ও প্রার্থীর এজেন্টদের মতামত নেন, এরপর তিনি সিল মারেন বলে জানান।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বাসেদ বলেন, বেলা আনুমানিক তিনটার দিকে তাঁর কাছে অভিযোগ আসে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রিজিয়া সুলতানা একজন ভোটারের ব্যালট পেপারে নিজে সিল মারেন। এরপর তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে অভিযুক্ত সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নজরদারি জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
হাতিয়া উপজেলার এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভোটাররা নির্বাচনী অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং স্বচ্ছ ভোটিং প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। রিজিয়া সুলতানা উপজেলার সৈয়দিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যা এই ঘটনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
নির্বাচন কমিশন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচনী নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগের গুরুত্বকে উজ্জ্বল করে তুলেছে।
