ভালুকায় ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভিতে ধরা পড়লো ব্যালট পেপারে সিল মারার ঘটনা
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে পাঁচ জন তরুণ ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সে ভরার ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের লোহাবৈ বরাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের কন্ট্রোল রুমে সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনা দেখার পরপরই পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে যান।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বেলা আড়াইটার পর তরুণদের একটি দল লোহাবৈ বরাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে পাঁচ জন তরুণ একটি বুথে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল মারতে শুরু করেন। বুথে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনও কর্মী উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা ১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের। ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন ব্যালট পেপারে সিল মারছেন, অন্য তিন জন সেই ব্যালট পেপার ভাজ করে বাক্সে ভরছেন, এবং আরও তিন জনকে সেখানে উপস্থিত দেখা যায়।
কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনায় প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবু হেনাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আধা ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন জানান, কন্ট্রোল রুমে সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনা দেখার পরপরই পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট যান। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কিছুটা দুর্বলতা ছিল, তাই তাকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে।
ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘তারা হয়তো সর্বোচ্চ ৫০-১০০টি সিল মেরে থাকতে পারে। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ব্যালট পেপারে যদি সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সিল-স্বাক্ষর না থাকে, তাহলে সেটি অবৈধ। অবৈধ ব্যালট কাউন্ট করার কোনও সুযোগ নেই। আমরা সেই ব্যালট পেপার গণনা করবো না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা ভোটারদের ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছি।’
ঘটনার পরবর্তী অবস্থা
ঘটনার পর কেন্দ্রটি আধা ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয় এবং তারপর পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করছে।
