নাতির কোলে চড়ে ভোট দিলেন ৯৫ বছর বয়সি দাদা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে কুমিল্লায় দেখা গেল এক অসাধারণ ও হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। ৯৫ বছর বয়সি প্রবীণ ভোটার তাজুল ইসলাম নাতির কোলে চড়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বার্ধক্য ও শারীরিক অসুস্থতা জয় করে গণতান্ত্রিক অধিকার পালনের এই ঘটনা নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কুমিল্লার লাকসামে ঘটনা
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের লাকসাম পৌর শহরের আবদুল মালেক ইনস্টিটিউশন রেলওয়ে হাই স্কুল ভোট কেন্দ্রে আসতে দেখা যায় প্রায় ৯৫ বছর বয়সি তাজুল ইসলামকে। স্থানীয়রা জানান, তিনি কয়েক বছর ধরে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ছাড়া বাড়ি থেকে খুব একটা বের হন না।
তবে আজ ভোট দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করলে প্রবীণ এই ভোটারের স্ত্রী আমেনা বেগম ও নাতি ইয়াকুব তাকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন। তারা প্রথমে ভ্যানে করে এবং পরে কোলে করে তাজুল ইসলামকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।
প্রবীণ ভোটারের অনুভূতি
ভোট দেওয়ার পর তৃপ্তির হাসি ছিল তাজুল ইসলামের চোখে-মুখে। তিনি বলেন, "দীর্ঘ ১৬ বছর ভোট দিতে পারিনি, কারণ আমার ভোট জ্বিনের মতো লোকজন দিয়েছে। জীবনের শেষ সময়ে নাতিদের কোলে চড়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলাম। খুব খুশি লাগছে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।"
তাজুল ইসলামের নাতি ইয়াকুব জানান, "দাদা কয়েক দিন ধরেই ভোটের আগ্রহের কথা জানান। আগ্রহের কারণেই ওনাকে নিয়ে সকাল ১১টায় বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে ভ্যানে করে পরে কোলে করে কেন্দ্রে নিয়ে আসি। দাদা ভোট দিতে পেরে খুব খুশি হয়েছেন।"
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
লাকসাম পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এই পরিবারের এই আগ্রহ ও সংকল্প দেখে স্থানীয়রা অভিভূত হয়েছেন। বার্ধক্য ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের এই দৃশ্য নির্বাচনী দিনের বিশেষ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ভোটাদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকলেও পরিবারের সহযোগিতায় ভোট দেওয়ার এই ঘটনা সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
গণতন্ত্রের জয়গান
সব মিলিয়ে বয়স ও অসুস্থতা জয় করে ভোটাধিকার প্রয়োগের এই দৃশ্য শুধু কুমিল্লার লাকসাম-মনোহরগঞ্জেই নয়, সারাদেশের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমন হৃদয়গ্রাহী ঘটনা গণতান্ত্রিক চেতনা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দিচ্ছে।
প্রবীণ ভোটার তাজুল ইসলামের এই সংকল্প ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার রয়েছে এবং পরিবার ও সমাজের সহযোগিতায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব।
