ভোট দিতে দেরিতে পৌঁছানোর পরও রিকশায় করে কেন্দ্রে ছুটলেন দুই নারী
দুই নারীর রিকশায় করে ভোটকেন্দ্রে ছুটে যাওয়ার গল্প

দুই নারীর রিকশায় করে ভোটকেন্দ্রে ছুটে যাওয়ার গল্প

রাজধানী ঢাকার কড়াইল বস্তির একই বাসায় বসবাস করেন মোছাম্মৎ জান্নাত ও মোছাম্মৎ জ্যোৎস্না। জান্নাত একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন, এবং সেদিন কাজ শেষ করে বাসায় ফিরতে তাঁর দেরি হয়ে গিয়েছিল। ভোটের সময় শেষ হওয়ার আগে তিনি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। এই মুহূর্তে, তাঁর সহবাসী জ্যোৎস্না তাঁকে ভোট দিতে উৎসাহিত করেন এবং দুজন মিলে রিকশায় করে দ্রুত সাড়ে চারটার আগে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান।

ভোট দেওয়ার পর খুশির ঝিলিক

জ্যোৎস্না ও জান্নাত উভয়েই ঢাকা–১৭ আসনের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত। ভোট দেওয়ার পর যখন তাঁরা রাজধানীর বনানী মডেল স্কুল কেন্দ্র থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন বিকেল সাড়ে ৪টা পার হয়ে গিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্র থেকে দ্রুত বের হওয়ার জন্য তাঁদের তাড়া দিচ্ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে, জান্নাত ও জ্যোৎস্নার সঙ্গে প্রথম আলোর প্রতিবেদকের সংক্ষিপ্ত আলাপ হয়। ভোট দিতে পেরে তাঁদের চোখমুখে স্পষ্টভাবে খুশির ঝিলিক লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

জান্নাত প্রথম আলোকে বলেন, 'কাজ থেকে ফিরতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। ভেবেছিলাম, ভোট আর দেওয়া হবে না। এ অবস্থায় জ্যোৎস্না রিকশায় করে নিয়ে আসল।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই সহযোগিতা ছাড়া তিনি সম্ভবত ভোট দিতে পারতেন না।

অন্যদিকে, জ্যোৎস্না প্রথম আলোকে বলেন, 'একটা ভোট নষ্ট হবে কেন, তাই রিকশায় করে নিয়ে আসলাম। অনেক সময় এক ভোটেও হার-জিত হয়।' তাঁর এই উক্তি ভোটের গুরুত্ব ও নাগরিক দায়িত্ববোধের প্রতি একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ ও প্রতিক্রিয়া

বনানী মডেল স্কুল কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, সময়সীমা শেষ হওয়ার কাছাকাছি সময়ে ভোটারদের দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করতে বলা হচ্ছিল। জান্নাত ও জ্যোৎস্নার মতো অনেক ভোটারই শেষ মুহূর্তে পৌঁছে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছেন।

এই ঘটনা শহুরে বস্তি এলাকার নাগরিকদের ভোটদানে অংশগ্রহণের চ্যালেঞ্জ ও দৃঢ়তাকে তুলে ধরে। এটি দেখায় যে, সামান্য উৎসাহ ও সহযোগিতা কীভাবে একজন ব্যক্তির ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।