দিনাজপুরে ভোটারদের নগদ টাকা বিতরণের সময় জামায়াতের দুই কর্মী আটক
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে একটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিতরণের সময় সংগঠনের দুই কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি ভূমিকা পালন করেছেন এবং প্রশাসনকে দ্রুত অবহিত করেছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকাল ৮টার দিকে বিরামপুর পৌর শহরের চকপাড়া এলাকা থেকে নুরুল আমিন ইমন ও সেতু মন্ডল নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টার দিকে এই দুইজন বিরামপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ফিসারি অফিস সংলগ্ন চকপাড়া কলযাণপুর গ্রামে প্রবেশ করেন।
তারা আদিবাসী পাড়া ও তার সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় ভোটারদের মাঝে গোপনে কাজ শুরু করেন। প্রতিটি ভোটারকে নগদ ৫০ টাকা করে বিতরণ করার সময় স্থানীয়রা সচেতন হয়ে ওঠেন এবং তাদের হাতেনাতে আটক করে ফেলেন। টাকাসহ আটককৃত দুই ব্যক্তিকে পরে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আটককৃতদের পরিচয় ও স্বীকারোক্তি
আটককৃত দুই ব্যক্তির পরিচয় নিম্নরূপ:
- নুরুল আমিন ইমন (৩৫ বছর), বিরামপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের প্রফেসর পাড়া মহল্লার আজিম উদ্দীনের ছেলে।
- সেতু মন্ডল (৩৪ বছর), চকপাড়া (পাহানপাড়া) গ্রামের গাব্রিয়েল মন্ডলের ছেলে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত দুইজন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোটারদের নগদ টাকা বিতরণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। তাদের এই কাজটি ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পেয়ে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব লিয়াকত আলী সেখ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি সরাসরি দুইজনকে আটক করে বিরামপুর থানায় সোপর্দ করেন।
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, "ভোটারদের মাঝে যাতায়াতের টাকা বিতরণের সময় জামায়াতে ইসলামীর দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।"
এই ঘটনা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময়ে নির্বাচনী শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য অর্থের ব্যবহার একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করে।
