জামায়াতে ইসলামীর তীব্র অভিযোগ: কুমিল্লা-৮সহ কয়েক আসনে ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম
জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা-৮, শরীয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ আসনসহ বেশ কয়েকটি আসনের ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী অনিয়মের তীব্র অভিযোগ তুলেছে। দলটি এসব ভোটকেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা এবং অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে এই অভিযোগ উপস্থাপন করেন।
লিখিত অভিযোগে শতাধিক ভিডিও ফুটেজ সংযুক্ত
বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এই অভিযোগপত্রে শতাধিক ভিডিও ফুটেজের লিংক সংযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বড় ধরনের ঘটনাগুলো দৃশ্যমান। তবে মোট কতটি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, তা তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।
কুমিল্লা-৮ আসনে ৩০টি ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ
জামায়াত নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বিশেষভাবে কুমিল্লা-৮ আসনের ৩০টি ভোটকেন্দ্র থেকে তাঁদের দলীয় এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রিটার্নিং অফিসারকে এই বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও তিনি কোনো প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নোয়াখালী-৬, ঝালকাঠি ও শরীয়তপুরে সন্ত্রাস ও হামলার অভিযোগ
জামায়াতের এই নেতা আরও বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, নোয়াখালী-৬ আসনে গত রাত থেকে রক্তাক্ত সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ঝালকাঠি ও শরীয়তপুরে অনুরূপ সমস্যা দেখা দিয়েছে, যেখানে দলীয় এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমানের গাড়ি বহরে হামলা হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
জামায়াতে ইসলামীর এই অভিযোগগুলি নির্বাচন কমিশনের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে। দলটি ভোটকেন্দ্রগুলিতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের উপর জোর দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত আগামী দিনগুলিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
