১৭ বছর পর ভোট দিতে পেরে লুৎফুজ্জামান বাবরের আবেগঘন মন্তব্য
১৭ বছর পর ভোট দিতে পেরে বাবরের আবেগঘন মন্তব্য

১৭ বছর পর ভোট দিতে পেরে লুৎফুজ্জামান বাবরের আবেগঘন মন্তব্য

নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, "আমি কল্পনা করিনি জীবনে কখনো আর ভোট দিতে পারবো।" বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে নিজ উপজেলা মদন কোর্ট ভবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন।

আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া

লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, "১৭ বছর পর ভোট দিতে পেরেছি। তাই আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া। আমার স্ত্রী ও সন্তানরাও আমার সঙ্গে আজ প্রথম ভোট দিয়েছেন।" এই আবেগঘন মুহূর্তে তার পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

বাবরের রাজনৈতিক জীবন

বাবর ১৯৯১ সালে এই আসন থেকে প্রথমবার বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জায়গা করে নেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রিসভায়। ওই সময় তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী। একই সময় তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বাবরকে মনোনয়ন না দিলেও কারাগারে থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। এ সময় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাবর, যেখানে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন অনেক পেছনে। পরে বিএনপি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করলেও বাবর আর কেন্দ্রীয় বা জেলা বিএনপির কোনো পদ পাননি।

নেত্রকোনা-৪ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা

এই আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন:

  • জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার
  • সিপিবির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় সিপিবির সদস্য জলি তালুকদার
  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মুখলেছুর রহমান
  • বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির চম্পা রানী সরকার

আসনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের আসন নেত্রকোনা-৪। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৭৫ হাজার ৩১২ জন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন ঘিরে রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তার দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগের অভিজ্ঞতা এই নির্বাচনী প্রচারে একটি উল্লেখযোগ্য মাত্রা যোগ করেছে।