নোয়াখালীতে নির্বাচনী হামলার অভিযোগ: এনসিপি নেতার স্ত্রী ফেসবুকে বললেন, বিএনপি অস্বীকার করল
নোয়াখালীতে নির্বাচনী হামলা: এনসিপি নেতার স্ত্রী ফেসবুকে অভিযোগ

নোয়াখালীতে নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগ: এনসিপি নেতার স্ত্রী ফেসবুক লাইভে বললেন, বিএনপি অস্বীকার করল

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসুদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনী এবং তাঁর ভাইয়ের ওপর নির্বাচনী হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে হাতিয়া উপজেলার বুড়িচর ইউনিয়নের আসাদিয়া ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হচ্ছে।

হামলার বিবরণ ও এনসিপির অভিযোগ

হান্নান মাসুদের নির্বাচনী সমন্বয়ক মো. ইউসুফ জানান, শ্যামলী সুলতানা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে অজ্ঞাত হামলাকারীদের আক্রমণের শিকার হন। তিনি বলেন, "হামলাকারীরা শ্যামলী সুলতানাকে মারধর করে তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেয়।" এনসিপির নেতা-কর্মীদের দাবি, বিএনপির সমর্থকরা এ হামলায় জড়িত এবং এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

শ্যামলী সুলতানার ফেসবুক পোস্ট

হামলার পর শ্যামলী সুলতানা জেদনী নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। তিনি সেখানে দাবি করেন, "আমাকে রড দিয়ে পেটানো হয়েছে এবং হামলার ভিডিও ধারণকারীর ফোনও ভেঙে ফেলা হয়েছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

বিএনপির প্রতিক্রিয়া ও অস্বীকার

হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন হাতিয়া উপজেলার বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ফজলুল হক খোকন। তিনি বলেন, "গতকাল রাত থেকে এনসিপি নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। কোথাও কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।" বিএনপি নেতারা দাবি করেন, এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মাত্র।

প্রশাসনের বক্তব্য ও নির্বাচনী পরিস্থিতি

স্থানীয় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে জেলা প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, "হাতিয়ার কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক রয়েছে।"

এ ঘটনায় নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কামনা করছেন।