প্রতিবন্ধী মারুফের প্রথম ভোট: শারীরিক বাধা হার মানলো গণতন্ত্রের উৎসবে
জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী মারুফের জন্য বৃহস্পতিবার ছিল একটি ঐতিহাসিক দিন। এবারই প্রথমবারের মতো তিনি তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। শারীরিক অক্ষমতা তার উদ্যম ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি আগ্রহের কাছে সম্পূর্ণভাবে হার মানতে বাধ্য হয়েছে।
মায়ের সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি
বাধ্য হয়ে প্রতিবন্ধী ছেলেকে হুইলচেয়ারে করে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন মারুফের মা। কুড়িগ্রাম সদরের নীলারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এই প্রতিবন্ধী তরুণ। ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে তাকে সহায়তা করেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যসহ অন্য কয়েকজন ভোটারও।
ভোট কক্ষ থেকে বের হয়ে ভাঙা ভাঙা শব্দে মারুফ বলেন, 'প্রথম ভোট দিলাম। খুব ভালো লাগছে।' এ সময় তিনি তার পরিচিত অন্য কয়েকজন ভোটারকেও ভোট দেওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করেন, যা তার সামাজিক সচেতনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়।
মায়ের আবেগঘন বর্ণনা
মারুফের মা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, 'ভোট দেবে বলে সারারাত ঘুমায় নাই। সকাল থেকে কেন্দ্রে আসার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে। এজন্য হুইলচেয়ারে করে নিজে কেন্দ্রে নিয়ে আসলাম। ও ভোট দিতে পেরে খুব খুশি। এবার ভোটের পরিবেশটা অনেক ভালো। আমরা সবাই খুশি।'
তার কথায় ফুটে উঠেছে একটি পরিবারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অদম্য ইচ্ছা ও সংকল্প, যা শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে মানবিক উৎকর্ষের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কুড়িগ্রামে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের চিত্র
বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কুড়িগ্রাম সদরসহ জেলার প্রতিটি উপজেলায় সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের খবর পাওয়া গেছে। কেন্দ্রগুলোতে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে, যা নারীর রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির ইঙ্গিতবাহী।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩৪ জন। ৭০৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম অব্যাহতভাবে চলছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ দুপুর ১টার দিকে বলেন, 'এখন পর্যন্ত সব কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রায় ৩১ ভাগ ভোট পড়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। কোনো অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।'
তার এই বক্তব্য জেলায় শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন নির্বাচনী পরিবেশ বজায় থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাফল্যের দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করছে।
