চট্টগ্রামে নির্বাচনী কেলেঙ্কারি: ফলাফলের তালিকায় অগ্রিম স্বাক্ষরের অভিযোগে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার
চট্টগ্রামে নির্বাচনী কেলেঙ্কারি: প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার

চট্টগ্রামে নির্বাচনী কেলেঙ্কারি: ফলাফলের তালিকায় অগ্রিম স্বাক্ষরের অভিযোগে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে। ফলাফলের তালিকায় অগ্রিম স্বাক্ষর নেওয়ার দায়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তর সাতকানিয়া আলী আহমদ প্রাণহরি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

উত্তেজনা ও সেনাবাহিনীর মোতায়েন

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলম ভোটকেন্দ্রে ফলাফলের তালিকায় অগ্রিম স্বাক্ষর নিলে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নিরাপত্তা জোরদার করতে সেনাবাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উত্তেজনার জের ধরে কিছুক্ষণের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।

কর্মকর্তার প্রত্যাহার ও ভোটগ্রহণ পুনরায় শুরু

দায়িত্বরত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলমকে প্রত্যাহার করেন। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে ভোটগ্রহণ পুনরায় শুরু হয়। প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তা ফরিদুল আলম দাবি করেন, ভোট শেষে ফলাফলের তালিকা তৈরিতে ঝামেলা এড়াতে তিনি আগেভাগে স্বাক্ষর নিয়েছেন এবং তার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না।

বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ

ওই আসনের বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন এ ঘটনাকে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ফলাফলের তালিকায় অগ্রিম স্বাক্ষর নেওয়া একটি নির্বাচনী অপরাধ এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এলডিপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে তার সন্দেহ রয়েছে। এই অভিযোগ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এই ঘটনা চট্টগ্রামে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমন ঘটনা ভবিষ্যতে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন রোধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।