শুক্রবার ভোরেই জাতি পাবে নির্বাচনের রায়: সালাহউদ্দিনের প্রত্যাশা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, শুক্রবার ভোরবেলার মধ্যেই সমগ্র জাতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত রায় পেয়ে যাবে। তিনি দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে এই আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন।
ভোটকেন্দ্রে ঈদের আমেজ ও গণতান্ত্রিক উৎসব
সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, "আমি অনেকগুলো কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি, মানুষের মধ্যে একটা ঈদের আমেজ ও আনন্দের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করেছি। ভোট দেওয়ার পরেও তারা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করছে, তাদের কাছে পুরো প্রক্রিয়াটি একটি উৎসবের মতো মনে হচ্ছে।" তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনকালে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আমি খুবই খুশি এবং আনন্দিত বোধ করছি। আমার ধারণা, সকল ভোটারই আনন্দিত। দীর্ঘ ১৭ বছর পর এই রকম একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য জাতি অপেক্ষা করছিল। সমগ্র জনগণ সংগ্রাম করেছে, আন্দোলন করেছে এবং রক্ত দিয়েছে আজকের এই দিনের জন্য।"
বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন
সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, আজকের দিনটি আগামী বাংলাদেশ গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, "মানুষের আজকের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন করবে। ইতিহাসের বাঁক বদলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে এবং আমরা সবাই এর সাক্ষী।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, শেষ পর্যন্ত সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হবে এবং মানুষ অবাধে ভোটদান করতে সক্ষম হবে।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, "ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল শুক্রবার ভোরবেলার মধ্যেই সমগ্র জাতি এই নির্বাচনের রায় পাবে।"
সাইবার বুলিং ও গুজব মোকাবেলায় সাফল্য
সাইবার বুলিং সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কিছু মহল অস্বাভাবিক ও অগণতান্ত্রিক পন্থায় তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে চাইছে। তবে গত কয়েকদিনে বাংলাদেশের মানুষ এসব প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, "সাইবার বুলিং এখন ডিসইনফরমেশনের একটি অংশ হয়ে গেছে। এগুলোর মোকাবেলায় বিকল্প প্রক্রিয়া বের করতে হবে। নির্বাচন কমিশন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে গুজব ও ডিসইনফরমেশন মোকাবেলায় খুবই আন্তরিক ছিল।"
সালাহউদ্দিনের মতে, "শতভাগ সাফল্য না পেলেও আশি শতাংশ বা তারও বেশি সফলতা অর্জিত হয়েছে। আমরা জনগণের বিজয় ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা প্রত্যক্ষ করছি, যা এখন থেকে আরও শক্তিশালী হবে।"
গণতান্ত্রিক চর্চায় ব্যক্তিগত অংশগ্রহণ
বক্তব্য দেওয়ার আগে সকালে সালাহউদ্দিন আহমদ পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রে গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদান করেন। তিনি নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শক্তিশালীকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ শেষে বলেন, "এটাই আমাদের প্রত্যাশা, অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি। জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা যেন শক্তিশালী হয় এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের এই প্রক্রিয়া যেন অব্যাহত থাকে।"
