মেহেরপুরে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে সংঘর্ষে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী আহত
মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলায় ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়, যাতে দুই এলাকায় মোট ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং পুলিশ দুই জনকে আটক করেছে।
মুজিবনগরে সংঘর্ষে পাঁচ জন আহত
মুজিবনগর উপজেলার জয়পুর গ্রামে ভোটকেন্দ্রের প্রায় ১০০ গজ দূরে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এই সংঘর্ষে বিএনপি সমর্থক আশাদুল এবং জামায়াত সমর্থক বাইজিদ, আবু ওবাইদা, মাহাফিজুর রহমান রিটন ও আইনাল গাজীসহ পাঁচ জন আহত হন।
মুজিবনগর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, "সকালে জয়পুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জামায়াতের দুই সমর্থক শহিদুল ও আশরাফ হোসেনকে আটক করে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ চলছে। পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
গাংনীতে সংঘর্ষে ১০ জন আহত
অন্যদিকে, গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে বিএনপি সমর্থকরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এই সংঘর্ষে জামায়াতের ১০ কর্মী-সমর্থক আহত হন এবং তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, "বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা জোরদার করতে।"
এই সংঘর্ষের পর স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা চলছে।
নির্বাচনী পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
মেহেরপুরে এই সংঘর্ষের ঘটনাগুলো নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তবে, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে এমন বাধা ও সংঘর্ষ ভোটারদের অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন এই ঘটনাগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সকল পক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
