খুলনায় ভোটকেন্দ্রে বিএনপি নেতার মৃত্যু: জামায়াত-বিএনপি বিতর্কে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
খুলনায় ভোটকেন্দ্রে বিএনপি নেতার মৃত্যু, উত্তেজনা

খুলনায় ভোটকেন্দ্রে বিএনপি নেতার মৃত্যু: উত্তেজনা ও বিতর্কের ঘটনা

খুলনা সদর উপজেলার আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে বিএনপির এক নেতার মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

নিহত ব্যক্তি হলেন মহিবুজ্জামান কচি, যিনি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাসস্থান ছিল নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা একাডেমিক ভবন কেন্দ্রের অদূরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করেন, 'সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। তাকে বাধা দিলে তিনি মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দেন, যার ফলে কচি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং মৃত্যুবরণ করেন।'

অন্যদিকে, জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান সম্পূর্ণ ভিন্ন বিবৃতি দিয়ে বলেন, 'আমাদের নারী কর্মীদের বিএনপির লোকজন বের করে দিচ্ছিল। আমি বাধা দিলে তাদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান। এখানে কাউকে ধাক্কা বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পরীক্ষা করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে।'

পুলিশ ও হাসপাতালের প্রতিক্রিয়া

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন এবং এটি তার দায়িত্বের বাইরে বলে মত প্রকাশ করেন। কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা সদর থানার এসআই খান ফয়সাল রাফি জানান, 'দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিই। একজনকে অটোরিকশায় করে বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়, কিন্তু ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতির কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি।'

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ রায় বলেন, মহিবুজ্জামান কচিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় এবং তার শরীরে আঘাতের কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া ও দাবি

খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু স্পষ্ট অভিযোগ তুলে বলেন, 'আলিয়া মাদ্রাসায় জামায়াত নেতার ধাক্কায় বিএনপি নেতা কচি নিহত হয়েছেন। আমরা অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতা মাহাবুবের তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।'

জামায়াতের প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট শেখ জাহাঙ্গীর আলম পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, 'তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই ঘটনায় জামায়াতকে জড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক। অধ্যক্ষ মহোদয় জামায়াতের সদস্য নন এবং তার কোনো ভূমিকা নেই।'

আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া নিজের বক্তব্যে বলেন, 'আমি ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম, তখন দেখি কয়েকজন নারীকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। আমি সবাইকে শান্তভাবে যেতে বলি, কিন্তু কাউকে ধাক্কা দিইনি বা শারীরিকভাবে আঘাত করিনি।'

এই ঘটনা খুলনা অঞ্চলে নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা নির্ণয়ের চেষ্টা করছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।