নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ, শ্যামলী সুলতানা জেদনী আহত
নোয়াখালী-৬ (আসন) ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনীর ওপর বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্যামলী সুলতানা জেদনী নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
ফেসবুকে বিস্তারিত বর্ণনা
শ্যামলী সুলতানা জেদনী ফেসবুকে লেখেন, "আমাকে রড দিয়ে মারছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। আমার ফোন কেড়ে নিছে। আমাকে মারার ভিডিও যে ধারণ করেছে, তার ফোন ভেঙে ফেলছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আমার দেবরকে কয়েকজন মিলে একসঙ্গে মারছে। প্রশাসন নিষ্ক্রিয়!" এই পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
হামলার সময় ও স্থান
অভিযোগ অনুসারে, সকাল ১০টায় উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আসাদিয়া কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে আসার পথে এই হামলা সংঘটিত হয়। বিএনপি নেতা লিটন চৌধুরী ও স্বপন মেম্বারের নেতৃত্বে একদল লোক রাস্তা অবরোধ করে হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনীর ওপর হামলা চালায় বলে জানা গেছে। হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং পরে এনসিপি নেতাকর্মীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া উপজেলার ওসি আলাউদ্দিন বলেন, "বিষয়টি শুনেছি। আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত এর সত্যতা নিশ্চিত হতে পারিনি।" পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, তারা ঘটনাস্থলে তদন্ত চালাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নোয়াখালী-৬ আসনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলমান ছিল। এই হামলার ঘটনাটি নির্বাচনী সহিংসতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং দ্রুত বিচার দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি এখনও এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি শেয়ার করে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
