বাগেরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: ভোটারদের টাকা বিতরণের অভিযোগে আহত আটজন
বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া এলাকায় ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগ ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয় দলের কমপক্ষে আটজন আহত হয়েছেন। বুধবার রাত ১০টার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
জামায়াতের অভিযোগ: ধানের শীষের টাকা বিতরণ ও হামলা
জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ধানের শীষের নেতা-কর্মীরা ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করতে বেরিয়েছিলেন। স্থানীয় জামায়াত কর্মীরা এই খবর পেয়ে সেখানে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই হামলায় জামায়াতের কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন এবং তাঁদের চুরি আঘাত করা হয়েছে। আহত জামায়াত কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন তুহিন শেখ, হাবিবুর রহমান শেখ, গোলাম মোস্তফা, শিমুল শেখ, মো. হাসিবুল ও আলী মল্লিক।
বিএনপির পাল্টা অভিযোগ: জামায়াতের টাকা ও লিফলেট বিতরণ
অন্যদিকে, বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ হলো যে জামায়াতের লোকজন টাকা ও লিফলেট নিয়ে এলাকায় ঢুকেছিলেন। তখন কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে গণ্ডগোল হয় এবং এই ঘটনায় বিএনপির দুজন আহত হয়েছেন। আহত বিএনপি কর্মীরা হলেন ভাস্কর চক্রবর্তী ও সেলিম শেখ। বারুইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ গোলাম মাসুদ দাবি করেন যে জামায়াতের ৮-১০ জন লোক বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা ও লিফলেট দিচ্ছিলেন এবং বিএনপির কর্মীরা বাঁধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
আহতদের চিকিৎসা ও পুলিশের তদন্ত
আহত জামায়াতের ছয় কর্মীকে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাগেরহাট-২ আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোস্তাইন বিল্লাহ। তিনি আরও বলেন যে ধানের শীষের পক্ষে স্থানীয় লিটু মেম্বারসহ বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী টাকা বিতরণ করতে বেরিয়েছিলেন এবং জামায়াত কর্মীরা পিছু নিলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যায় এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এই সংঘর্ষটি বাগেরহাটে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তি বজায় রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
