বরিশালের ভোটকেন্দ্রে অনুমতি ছাড়া বের হওয়ায় দুই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বরখাস্ত
ভোটকেন্দ্রে অনুমতি ছাড়া বের হওয়ায় দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

বরিশালের ভোটকেন্দ্রে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় একটি ভোটকেন্দ্র থেকে অনুমতি ছাড়া বের হওয়ার অভিযোগে দুই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাটি হাবিবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘটিত হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, কেন্দ্রটির সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন মো. ওবায়েদুল ও আয়েশা নামের দুই শিক্ষক। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে অবহিত না করেই কেন্দ্র ত্যাগ করেন। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, এই দুই কর্মকর্তা উপজেলা জামায়াতের আমিরের বাসায় গিয়ে একটি বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।

বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাদের আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজাকে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তিনি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং দুজনকে বরখাস্ত করে নতুন দুই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেন।

অভিযুক্তদের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া

অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা জামায়াতের উপজেলা আমিরের বাসায় বৈঠকের অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা শুধুমাত্র খাবার খেতে বাইরে গিয়েছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন, কিন্তু পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তাঁদের বরখাস্ত করে নতুন দুইজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কেন্দ্রে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কেন্দ্র ত্যাগের কোনো বিধান নেই। নিয়ম ভঙ্গ এবং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ঘটনার প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত দুই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং কেন্দ্রের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে বলে জানা গেছে। উপজেলা প্রশাসন এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে।