সিলেটের ভোটকেন্দ্রে রাতে তিন তরুণের আটক: পর্যবেক্ষক পরিচয় নিয়ে তদন্ত চলছে
সিলেট নগরের শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে রাতে তিন তরুণ পর্যবেক্ষক পরিচয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে দিয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এখন তাদের পরিচয় যাচাই করছে এবং ঘটনা তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে সিলেট-১ আসনের মিরাবাজার শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে তিন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক পরিচয়ে ঢুকে পড়েন। স্থানীয় জনতা এ দৃশ্য দেখে প্রতিবাদ জানালে তারা সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে জনতা তাদের আটক করে রাখে এবং রাত ১১টার দিকে সুবহানীঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনার আগে ওই কেন্দ্রে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন তরুণ নিজেদের পর্যবেক্ষক বলে দাবি করেছেন, কিন্তু রাতে কেন তারা কেন্দ্রে ঢুকতে চেয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া তারা সত্যিকারের পর্যবেক্ষক কিনা বা আইন লঙ্ঘন করেছেন কিনা, তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “তিন তরুণ রাতে কেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা চালালে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। খবর পেয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় পুলিশ ওই তিন তরুণকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।”
কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মইনুল জাকির বলেন, “তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এখন তারা আমাদের থানায় হেফাজতে আছেন।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এদিকে, তিন তরুণের পর্যবেক্ষক পরিচয় দিয়ে কেন্দ্রে ঢোকার ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “জামেয়া ভোটকেন্দ্রে রাতের বেলা পর্যবেক্ষকরা কী জন্য এসেছে, তারা এখন কেন আসলো, সেটা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত। এ ছাড়া প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তাদের ঢোকার অনুমতি কীভাবে দিলেন? পর্যবেক্ষক যদি হয়ে থাকে, তাহলে ভোট চলাকালে পর্যবেক্ষণ করবে। এখন কেন এলো? এজন্য দায়ী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।”
ঘটনাটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশের তদন্ত শেষে আরও স্পষ্টতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
