ভোটকেন্দ্র নিয়ে সংশয়ে ভোটাররা, গুগলে সার্চ বাড়ছে নির্বাচন-পূর্ব মুহূর্তে
‘ভোটকেন্দ্র কোথায় এখনও সেটা জানি না। আগে তো বাসায় স্লিপ দিয়ে যেত। এবার কেউ ভোটার স্লিপ দিয়ে যায়নি। এমনিতে সবসময়ই লেডি দেহলভি স্কুলে ভোট দিয়েছি। হয়তো ওই কেন্দ্রই হবে। সমস্যা নাই, সার্চ করলেই জানা যাবে’—চাঁদপুরের ভোটার সেলিনা আক্তারের এই কথাগুলো এবারের নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতির একটি চিত্র তুলে ধরছে।
ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করতে গুগলে সার্চ বেড়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটসহ মোট দুইটি ভোট দিতে হবে ভোটারদের। ভোটগ্রহণের সময় এবার এগিয়ে আনা হয়েছে এবং এক ঘণ্টা সময়ও বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন শুরু হতে আর ১২ ঘণ্টারও কম সময় হাতে থাকায়, গুগল ও সামাজিক মিডিয়ায় ভোটকেন্দ্র সম্পর্কিত নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মানুষ।
গুগল ট্রেন্ডে দেখা গেছে, ‘ইলেকশন ২০২৬’, ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি ২০২৬’, ‘ভোটার স্লিপ বিডি’, ‘ভোটার নম্বর চেক অনলাইন’, ‘ভোট সেন্টার চেক’, ‘ভোটার নম্বর বের করার নিয়ম’—এমন নানা শব্দ লিখে ভোটাররা তথ্য জানতে চাচ্ছেন। বেশিরভাগ শব্দই ইংরেজিতে লিখে সার্চ করা হয়েছে, তবে বাংলায়ও কিছু শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ ও ভোটারদের জন্য সহায়তা
নির্বাচন কমিশন এবার ভোটারদের সহায়তার জন্য অ্যাপ, হটলাইন নম্বর, এসএমএস সেবা চালু করেছে। ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামক অ্যাপে ভোটাররা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানতে পারবেন। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়েও ভোটকেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যাবে।
হটলাইন নম্বর ১০৫-এ ফোন করে ভোটাররা অপারেটরের সাথে কথা বলে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের নাম জানতে পারবেন। ভোটার স্লিপ, যা সাধারণত স্থানীয় পর্যায় থেকে দেওয়া হতো, এবার বেশিরভাগ জায়গাতেই দেওয়া হয়নি, ফলে ভোটাররা এই তথ্য পেতে অনলাইন ও হটলাইনের উপর নির্ভরশীল।
ভোটগ্রহণ সময় ও অন্যান্য বিধিনিষেধ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর সময় আধা ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচন ঘিরে যানবাহন চলাচলে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যেমন মোটরসাইকেল চলাচল ৭২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে এবং পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া ও ছবি তোলার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়। তবে গোপন কক্ষে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ বা ছবি তোলা নিষিদ্ধ। মুখের নিকাব বা পর্দা নিয়ে ভোট দিতে গেলে, প্রথম পোলিং অফিসার ভোটারের চেহারা মিলিয়ে দেখবেন, এবং পরিচয় গোপন করলে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
ভোটের ফলাফল ও শপথ গ্রহণ
ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল জানতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কারণ এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোট গণনা শেষে অনানুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ ফলাফল শুক্রবার দুপুর বা বিকেল নাগাদ পাওয়া যেতে পারে। আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ হতে শনিবার বা রোববার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ানোর বিষয়ে, অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রধান বিচারপতি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন। ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দ্রুত শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা চাওয়া হচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে, মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার, নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার, এবং হিজড়া ভোটার এক হাজার ১২০ জন। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, যেখানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
