যশোরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৬ আসনে জামায়াত-বিএনপির মুখোমুখি লড়াই
যশোরে নির্বাচন: জামায়াত-বিএনপির মুখোমুখি লড়াই

যশোরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৬ আসনে জামায়াত-বিএনপির মুখোমুখি লড়াই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে যশোর জেলার ৬টি আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটার সংখ্যা ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৫ জন। ভোটের মাঠে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে বিএনপি ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যেই মূল লড়াইয়ের আভাস মিলছে। একটি আসনে ত্রিমুখী লড়াই হলেও বাকি পাঁচটিতে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীরাই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন।

ভোটের সমীকরণে পরিবর্তন

ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘদিনের মিত্র দুই দল জামায়াত ও বিএনপি এবার মুখোমুখি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নির্বাচনের বাইরে থাকায় ভোটের সমীকরণ বদলে গেছে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে জেলার ৬টি আসনের ফলাফল নির্ধারণে বড় ফ্যাক্ট হিসেবে কাজ করবে আওয়ামী সমর্থক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভোট।

আসনভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা

যশোর-১ (শার্শা): চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াত ইসলামীর মুহাম্মদ আজীজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) ও বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন (ধানের শীষ) এর মধ্যে মূল লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (লাঙ্গল) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বক্তিয়ার রহমান (হাতপাখা) অন্যান্য প্রার্থী।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা): আট প্রার্থী লড়ছেন। জামায়াতের ডাক্তার মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ (দাঁড়িপাল্লা) ও বিএনপির সাবিরা সুলতানা (ধানের শীষ) শক্তিশালী প্রার্থী। মূল লড়াই তাদের মধ্যেই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জহুরুল ইসলাম (ঘোড়া) নির্বাচন থেকে সরে গেলেও ব্যালটে তার নাম থাকায় কিছু ভোট প্রভাবিত হতে পারে।

যশোর-৩ (সদর): ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (ধানের শীষ) ও জামায়াতের আব্দুল কাদের (দাঁড়িপাল্লা) এর মধ্যে লড়াইয়ের আভাস মিলছে। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টি, সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন ও জাগপার প্রতিনিধি।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর): সাতজন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। জামায়াত ইসলামীর গোলাম রসুল (দাঁড়িপাল্লা) ও বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজি (ধানের শীষ) এর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যশোর-৫ (মনিরামপুর): ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন। এখানে জামায়াত ইসলামীর গাজী এনামুল হক, বিএনপির রশীদ আহমাদ (ধানের শীষ) ও বিএনপির বিদ্রোহী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন (কলস) এর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

যশোর-৬ (কেশবপুর): পাঁচ জন প্রার্থী লড়ছেন। জামায়াতে ইসলামীর মোক্তার আলী (দাঁড়িপাল্লা) ও বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ) এর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা কথা বলছেন ভোটাররা।

নির্বাচনের প্রভাব

এই নির্বাচন জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ভোটার মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। যশোরের ৬টি আসনের ফলাফল জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।