জাতীয় নির্বাচনে মোবাইল-ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতে জরুরি প্রস্তুতি
নির্বাচনে মোবাইল-ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতে জরুরি প্রস্তুতি

জাতীয় নির্বাচনে মোবাইল-ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতে জরুরি প্রস্তুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। সারা দেশে ভোটের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। লাখ লাখ মানুষ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভোট দিতে শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন। যাতায়াতের ভিড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কল কেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরকার ও অপারেটরদের আশ্বাস

সরকার ও মোবাইল অপারেটরগুলো এই উদ্বেগ দূর করতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ মানের মোবাইল নেটওয়ার্ক কভারেজ নিশ্চিত করতে অপারেটরদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেকোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত সমাধানে ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবে ‘স্পেশাল সাপোর্ট টিম’।

তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচনে নেটওয়ার্কে কোনো প্রকার বাধা বা ‘জ্যামার’ ব্যবহার করা হবে না। পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনের তথ্য আদান-প্রদানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন, তাই নেটওয়ার্কের সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মোবাইল অপারেটরদের প্রস্তুতি

দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটরগুলোও তাদের নিজস্ব প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, নেটওয়ার্ক সেবা স্বাভাবিক রাখতে একটি বিশেষ ইমার্জেন্সি টিম গঠন করা হয়েছে। রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম জানান, গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ব্যাকআপ পাওয়ার ও টেকনিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমানও নিশ্চিত করেছেন, বিটিআরসি ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা নেটওয়ার্ক অপটিমাইজেশনের কাজ শেষ করেছেন।

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা

মোবাইল ইন্টারনেটের পাশাপাশি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিয়েও ভোটারদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই বলে জানিয়েছে আইএসপিএবি। সংগঠনটির সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, নির্বাচনের সময় অধিক সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যাতে কোথাও ইন্টারনেটের গতি কমে না যায় বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়। বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্রডব্যান্ড ব্যবসায়ীরা আগামী দুই দিন বিশেষ সতর্ক অবস্থায় থাকবেন।

সর্বোপরি, এই নির্বাচনে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা মসৃণ রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ভোটাররা নিশ্চিন্তে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।