শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপির মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর এগিয়ে থাকার কারণ
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা-গোসাইরহাট-ভেদরগঞ্জ আংশিক) আসনে ভোটারদের চোখে এগিয়ে আছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব হিসেবে পরিচিত। জামায়াতসহ একাধিক প্রার্থী থাকলেও নুরুদ্দিন আহাম্মেদের এগিয়ে থাকার মূল কারণ তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচিতি ও সক্রিয় প্রচারণা।
রাজনৈতিক পটভূমি ও প্রচারণা
মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ঢাকার জগন্নাথ কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি তারেক রহমানের একান্ত সচিব নিযুক্ত হন। এবারের নির্বাচনে তিনি ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে প্রচারণা চালিয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তিনি নির্বাচনি এলাকার প্রতিটি গ্রাম ও হাটবাজারে গিয়ে সব মতের মানুষের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি বিএনপির ৩১ দফা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনের স্মৃতি ও কারাভোগ
গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের সন্তান নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। সেই নির্বাচনের কয়েকদিন আগে প্রচারণার মিছিলে হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রায় ছয় বছর কারাভোগের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে জামিনে মুক্তি পান।
প্রতিদ্বন্দ্বী ও ভোটারদের মনোভাব
ডামুড্যা, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার আংশিক নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-৩ আসনে ৩ লাখ ৪০ হাজার ১৪২ জন ভোটার রয়েছেন। এখানে নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম। তবে ভোটার ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, নুরুদ্দিন আহাম্মেদের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচিতি তাকে এগিয়ে রেখেছে।
জনসভা ও সমর্থন
গত সোমবার ডামুড্যা উপজেলা সদরের মুসলিম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিএনপির জনসভার মাধ্যমে প্রচারণা শেষ করেন নুরুদ্দিন আহাম্মেদ। তিনি সকালে তার গ্রামের বাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও তাকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং গত দেড় মাসে প্রায় তিন হাজার আওয়ামী লীগ সমর্থক বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
প্রার্থীর বক্তব্য
মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে ভোটারদের প্রতিশ্রুতি শতভাগ বাস্তবায়ন করবো। এলাকা থেকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল করবো এবং বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেবো।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি, তাই আশাবাদী যে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।’
